প্রেম দিবসের দিন ম্যারেজ রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছাত্রী ও তার প্রেমিক। ওই যুগল বিয়ের নোটিস দেওয়ার জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-কেই বেছে নিয়েছিল। অফিসে যাওয়ার পরেই ঘটে বিপত্তি। পুলিশ ওই অফিসে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা স্কুটি থেকে উদ্ধার করে আগ্নেয়াস্ত্র! গতকাল, শনিবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের গোলাপবাগ এলাকায়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ শেষপর্যন্ত ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মামাকে গ্রেপ্তার করল। ধৃতের নাম শ্রীকান্ত দাস। কী কারণে এমন কাজ করলেন তিনি? ভাগ্নির বিয়ে আটকাতেই স্কুটিতে বন্দুক রাখা হয়েছিল? ভাগ্নিকে দেহ ব্যবসায় নামানোর ছক করা হয়েছিল? সেই প্রশ্ন উঠেছে। জুয়েল আহমেদ নামে এক ব্যক্তির খোঁজও করছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, ওই যুবকের বাড়ি বাঁকুড়ার পাত্রসায়র থানা এলাকার বীজপুরে। ওই তরুণীর বাড়ি বর্ধমান শহরের ২ নম্বর শাঁখারিপুকুর এলাকায়। স্থানীয় একটি স্কুলের এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সে। বেশ কিছুদিন ধরেই দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক। প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করার জন্য বর্ধমানেও যাতায়াত করে ওই প্রেমিক। বিয়ের সিদ্ধান্তও নেয় ওই যুগল। সেই মতো দু’জনেই ঠিক করে আজ, শনিবার প্রেমের এই বিশেষ দিনেই বিয়ের নোটিস দাখিল করা হোক। সেই মতো একটি স্কুটারে সওয়ারি হয়ে দু’জনেই হাজির হয়েছিল ম্যারেজ রেজিস্ট্রি অফিসে।
ধৃতের নাম শ্রীকান্ত দাস। কী কারণে এমন কাজ করলেন তিনি? ভাগ্নির বিয়ে আটকাতেই স্কুটিতে বন্দুক রাখা হয়েছিল? ভাগ্নিকে দেহ ব্যবসায় নামানোর ছক করা হয়েছিল? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে পুলিশের কাছেও গোপন সূত্রে একটি খবর এসেছিল। বর্ধমান শহরে একটি স্কুটারের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র লুকনো আছে। সেই স্কুটির নম্বরও পুলিশ জানতে পারে। সূত্র মারফত খবর পেয়ে পুলিশ ওই রেজিস্ট্রি অফিসে যায়। ওই স্কুটারটি তল্লাশি করতেই বেরিয়ে পড়ে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র! ঘটনা দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ওই প্রেমিক-প্রেমিকা দাবি করে, ওই বন্দুক কেউ ষড়যন্ত্র করে গাড়ির ভিতর রেখেছে। ওই বন্দুক তাদের নয়। কোনও খারাপ কাজের সঙ্গেও দু’জনে জড়িত নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। জানা গিয়েছে, ওই স্কুটিটি ছাত্রীর মায়ের। সেটির মধ্যে কীভাবে ওই আগ্নেয়াস্ত্র এল?
বর্ধমানের খাগড়াগড়ের বাসিন্দা জুয়েল আহমেদ এই ঘটনার মূলচক্রী! অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র ও নারী পাচারে যোগ রয়েছে তার। ওই পরীক্ষার্থীকে দেহ ব্যবসায় নামানোর ছক ছিল জুয়েলের! ওই ছাত্রীকে বিয়ে ভেঙে দিতে ৫ লক্ষ টাকার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি।
ছাত্রীর দিদা জানিয়েছিলেন, পরিবারের কেউ গোপনে শত্রুতা করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে পরে গ্রেপ্তার করল ওই ছাত্রীর মামা বছর ৫০ বয়সের শ্রীকান্তের। জেরায় পুলিশ জানতে পেরে, ভাগ্নির বিয়ে আটকাতে ওই আগ্নেয়াস্ত্র তিনিই স্কুটিতে রেখেছিলেন! জানা গিয়েছে, গত রাতে শ্রীকান্ত ওই স্কুটিটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তখনই ওই আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে গাড়িতে রাখা হয়। জেরায় তিনি জানিয়েছেন, খাগরাগড় এলাকার বাসিন্দা জুয়েল আহমেদ ওই বন্দুক দিয়েছিলেন। ওই ছাত্রীর প্রতি 'কুনজর' আছে জুয়েলের! ওই ছাত্রীকে কি দেহ ব্যবসায় নামানোর ছক কষা হয়েছিল? সেই প্রশ্নও উঠেছে গোপন সূত্রে।
বর্ধমানের খাগড়াগড়ের বাসিন্দা জুয়েল আহমেদ এই ঘটনার মূলচক্রী! অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র ও নারী পাচারে যোগ রয়েছে তার। ওই পরীক্ষার্থীকে দেহ ব্যবসায় নামানোর ছক ছিল জুয়েলের! ওই ছাত্রীকে বিয়ে ভেঙে দিতে ৫ লক্ষ টাকার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই ছাত্রী তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেই কারণে ফাঁসানোর ছক করে। সেই কাজে শ্রীকান্তকে হাত করে। তার পরিকল্পনায় শ্রীকান্ত ওই আগ্নেয়াস্ত্র স্কুটিতে রেখেছিল। জুয়েলের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
