বাড়ির পাশেই সক্রিয় পাচার চক্র! শিশু নিখোঁজের তদন্তে নেমে শিশু পাচার চক্রের হদিশ পেল মালাবাজার পুলিশ। এলাকার একটি শিশুকে পড়শি রাজ্য বিহারে বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার দম্পতি। পুলিশের জালে 'ক্রেতা'ও। তাঁদের বিরুদ্ধে শিশু ও মানবপাচারের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। রবিবার তিন অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকে।
ঘটনাটি মালবাজারের ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি হিন্দি স্কুল এলাকা থেকে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় ছয় বছরের একটি শিশু। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করলেও সন্ধান পায়নি। এরপরই শিশুটির মা দুগ্গি সাহানি মালবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্ত শুরু হতেই সন্দেহ গিয়ে পড়ে এলাকারই বাসিন্দা কুণাল কুমার ও তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা খাতুনের দিকে। তাঁদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস ও একাধিক তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ জানতে পারে, শিশুটিকে বিহারের পূর্ণিয়ার বাসিন্দা সুরেশ সিংয়ের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তথ্য নিশ্চিত হতেই মালবাজার পুলিশ একটি বিশেষ দল গঠন করে শনিবার রাতে বিহারের পূর্ণিয়ায় অভিযান চালায়। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সুরেশ সিংকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে কুনাল কুমার ও প্রিয়াঙ্কা খাতুনকেও গ্রেপ্তার হয়।
মাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রোশন প্রদীপ দেশমুখ জানান, “শিশু নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা তদন্ত শুরু করি। তদন্তে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করার তথ্য সামনে আসে। দ্রুত পদক্ষেপের ফলেই শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।" এই পাচারের পিছনে বড় কোনও শিশু পাচার চক্র জড়িত আছে কিনা, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
