সাংবাদ প্রাতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এবার এসআইআরের নোটিস পেলেন ৭৮ বছরের বৃদ্ধ, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক। এমনই ঘটনা ঘটেছে নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মাঝদিয়ার নারায়ণ চন্দ্র ঘোষের। তিনি শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাই করেননি, পাশাপাশি সিপিআইএম-এর হয়ে পাঁচ বারের পঞ্চায়েত প্রতিনিধি। তিনি প্রধান পদের দায়িত্বও সামলেছেন। মাজদিয়া তালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রাক্তন সদস্য ও পাঁচ বছরের প্রধানের দায়িত্ব সামলানো নারায়ণ বাবুর দাবি, তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক তাই তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে।
নারায়ণ বলেন, তৃণমূল সরকারের বিরোধিতা করেন বলেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য তৃণমূল সরকার এই বৃদ্ধ বয়সে এসআইআরের নোটিশ পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের জন্ম এখানে, তাঁরা ভারতের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও আজ এসআইআরের নোটিশ পাঠিয়ে অন্য দেশের বাসিন্দা তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমি নোটিশ পেয়েছি। আমার সমস্ত ডকুমেন্টস নিয়ে আমি ৬ তারিখে হাজির হব।"
বৃদ্ধ শিক্ষক নারায়ণ বাবুকে নোটিশ পাঠানো প্রসঙ্গে তাঁর স্ত্রী স্বপন কুমারী ঘোষ বলেন, "তৃণমূল সরকার এবং তৃণমূল পার্টি কোনও অবস্থাতেই তাঁদের পরিবারের সদস্যকে দলে না পেয়ে রাগ থেকে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।" তিনি বলেন, "এরা শুধু হিন্দু-মুসলমান নিয়ে রাজনীতি করে। আর আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। তৃণমূল সরকারের কাজ হল সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ভারতের নাগরিক হয়েও এসআইআরের নোটিশ পাঠানো।" তাঁর দাবি, "বিএলও যারা কাজ করছেন প্রত্যেকেই মমতা ব্যানার্জির সরকারে শিক্ষকতার চাকরি করেন। তাঁদের দলে টানতে না পেরে এই কান্ড ঘটিয়েছে বিএলওকে দিয়ে।"
সিপিআইএম নেতা নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ।
প্রতিবেশী সুবল চন্দ্র ঘোষ বলেন, "কোনও অবস্থাতেই আমাদের দাদার নাম বাদ দিতে পারবেনা চক্রান্তকারীরা। যা ডকুমেন্টস লাগবে সমস্ত ডকুমেন্ট তৈরি আছে আমাদের কাছে।" তার কথায়, "এটা একটা রাজনৈতিক অভিসন্ধি।" তৃণমূলের নেতা ও কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অনুপ দাস বলেন, "নারায়ণ বাবুর ধারণা ভুল। এসআইআরের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে তাঁদের দল তৃণমূল কোনওরকমভাবে যুক্ত নয়।" তিনি আরও বলেন, "এই বয়সে এসআইআরের মাধ্যমে মানুষের হয়রানি হচ্ছে। এটাই আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবাদ করে আসছেন।"
কৃষ্ণগঞ্জ-এর বিজেপি নেতা অরূপ কুমার ঘোষ বলেন, "সিপিএমের অস্তিত্ব না থাকলেও তাদের পরিবারকে নিজেদের দলের টানতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল। আর এর কারণেই তাদেরকে ফর্ম পূরন করা সত্ত্বেও নাম বাদ দিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "সিপিএমের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক মনোমালিন্য থাকতেই পারে। কিন্তু জনগণের হেনস্থা করার যে কৌশল তৃণমূল সরকার নিয়েছে তার আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"
