রাজধানীতে অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পাল খুনের কিনারা করল দিল্লি পুলিশ। বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার হলেন দম্পতি। ওই দম্পতি দেবস্মিতার বর্ধমানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাঁদের নাম রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস। সম্পত্তি আত্মসাৎ-এর কারণেই এই খুন! এমনই মনে করছেন দিল্লি পুলিশের আধিকারিকরা। বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকা থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভে বসবাস করতেন দেবস্মিতা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরাজির অধ্যাপিকা ছিলেন তিনি। তাঁর স্বামী থাকেন বেঙ্গালুরুতে। দেবস্মিতার বাবা-মাও দিল্লির ওই এলাকাতেই থাকতেন। বাঙালি অধ্যাপিকা একাই থাকতেন ওই ফ্ল্যাটে। পুলিশ সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেবস্মিতাকে বহুবার ফোন করেছিলেন তাঁর দিদি। কিন্তু সাড়া মেলেনি। বাধ্য হয়ে দুপুর আড়াইটে নাগাদ ফ্ল্যাটে যান দেবস্মিতার দিদি দেবারতি। দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। দরজা ভেঙে ঢুকতেই দেবারতি দেখেন, পড়ে রয়েছে দেবস্মিতার রক্তাক্ত মৃতদেহ। হাড়হিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। শুধু তাই নয়, একাধিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন আধিকারিকরা।
বর্ধমানের ওই বিশাল বাড়ি মামাবাড়ি সূত্রে পেয়েছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, ১০ কাঠা জমির উপর দোতলা দুটি বাড়ি রয়েছে। বর্ধমান শহরের বুকে ওই সম্পত্তির দাম আকাশছোঁয়া। দেবস্মিতার কোনও উত্তরসূরী নেই। তাঁর অবর্তমানে ওই সম্পত্তির কোনও দাবিদারও নেই বলে প্রাথমিক খবর।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বিশাল বাড়ি রয়েছে অধ্যাপিকার। সেই সূত্র ধরেই দিল্লি থেকে বর্ধমানে আসেন পুলিশ আধিকারিকরা। গতকাল, শুক্রবার রাতে দিল্লি পুলিশের ছয় আধিকারিক বাদামতলার অরবিন্দ স্টেডিয়াম এলাকার ওই বাড়িতে হানা দেন। ধারাবাহিক জেরার পরেই সামনে আসে খুনের ঘটনার কারণ। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, অধ্যাপিকার বাড়ির আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেখানেই বর্ধমানের ওই দম্পত্তিকে দেখা যায়। এরপরই দিল্লি থেকে রওনা হয়ে বর্ধমানের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দম্পত্তিকে। সেখানেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা গিয়েছে, দেবস্মিতা স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না। এদিকে বর্ধমানের ওই বিশাল বাড়ি মামাবাড়ি সূত্রে পেয়েছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, ১০ কাঠা জমির উপর দোতলা দুটি বাড়ি রয়েছে। বর্ধমান শহরের বুকে ওই সম্পত্তির দাম আকাশছোঁয়া। দেবস্মিতার কোনও উত্তরসূরী নেই। তাঁর অবর্তমানে ওই সম্পত্তির কোনও দাবিদারও নেই বলে প্রাথমিক খবর। এদিকে তিনি দিল্লিতে থাকেন। আর ওই বাড়িতে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামে ওই দম্পত্তি ভাড়া থাকেন। দেবস্মিতাকে সরিয়ে দিতে পারলেই ওই সম্পত্তি তাঁদের! এমনই পরিকল্পনা করেন স্বামী-স্ত্রী! সেই হিসেবে চুপিসাড়ে দিল্লি যাওয়া। দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে গিয়ে তাঁকে 'খুন' করে ফের বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে আসা! 'খুনের' পরও দিব্যি কাটাচ্ছিলেন ওই দম্পতি।
এদিন বিকেল পর্যন্ত বর্ধমানের ওই বাড়িতেই ছিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। দম্পতিকে দীর্ঘ জেরা করে আরও তথ্য পেতে চাইছেন তাঁরা। আগামী কাল, সোমবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে তোলা হবে। এরপর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
