স্টাফ রিপোর্টার: ভোটে খড়গপুর শহর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলকে ‘টক্কর’ দিতে বর্তমান বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের চেয়ে শত যোজন এগিয়ে আছেন ‘কর্মী-বন্ধু’ প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। হিরণের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে জেলা তথা রাজ্য নেতৃত্বকে এমনই বার্তা পাঠাল খড়গপুর শহর কেন্দ্রের নিচুতলার বিজেপি কর্মী ও কার্যকর্তারা। একইসঙ্গে হিরণকে নিয়ে বিতর্কের জেরে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুরে দিলীপের টিকিট পাওয়ার পথও আরও প্রশস্ত হয়ে গেল বলেই মনে করছে পদ্মশিবিরের বড় অংশ।
হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের টিকিট পাওয়া যেমন অনিশ্চিত, উল্টোদিকে খড়গপুরে বিজেপি কর্মীদের কাছের মানুষ দিলীপ তাঁর পুরনো আসন অনেকটাই নিশ্চিত করলেন। শুধু তাই নয়, পাঁচ বছর আগে ভোটে জেতার পর থেকে হিরণকে এলাকায় সেভাবে কর্মীরা শুধু পাননি তা নয়, উন্নয়নের কাজ দূরের কথা, সাংগঠনিক স্তরেও তঁাকে দেখা যায়নি বলে বৃহস্পতিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারকা বিধায়কের কেন্দ্রের গেরুয়া কর্মীদের বড় অংশই। কর্মীদের আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, হিরণ বর্তমান বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ কর্মীর ফোন ধরতেন না। যোগাযোগ করা যেত না। কিন্তু দিলীপকে এখনও ফোনে পাওয়া যায়।
খড়গপুরের দলের কর্মী-সমর্থকদের সামাজিক অনুষ্ঠানেও আসেন। অভিনেতা তথা বিধায়ক হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ব্যাপক বিড়ম্বনায় খড়গপুর বিজেপিও। পাশাপাশি হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে চলে এসেছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ব্যক্তিগত বিষয় বলে হিরণ সম্পর্কে নীরবতা রেখে প্রকাশ্য মন্তব্য এড়ালেও দলের অভ্যন্তরে কিন্তু অভিনেতা-বিধায়কের এই কাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড়। খড়গপুরে দলের বড় অংশই নেতৃত্বকে জানিয়েছেন এই পরিস্থিতিতে হিরণকে আর সেখানে টিকিট না দেওয়ার জন্য। বিজেপি পরিষদীয় দলের সঙ্গেও হিরণের যোগসূত্র খুব নিবিড় ছিল না। বিতর্ক এড়াতে দলের বিধায়ক সম্পর্কে নীরব রাজ্য নেতারা। এই বিবাহ বিতর্কের পর খড়গপুরের নিচুতলার বিজেপি কর্মী এবং মহিলা কর্মীরাদের কথায়, এই বিতর্ক নিয়ে হিরণের হয়ে তাঁরা প্রচার করতে যাবেন না।
এদিকে, নবপরিণীতা ঋতিকা গিরি বলেছিলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে হিরণের সঙ্গে আছি। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা তো সবই জানত।’ অনিন্দিতা পাল্টা জানিয়েছেন, “আর্থিকভাবে আমি হিরণের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। তবে হিরণ-ঋতিকার সম্পর্কের বিষয়টা নিয়ে আমি হিরণের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে মেসেজে জানিয়েছিল ‘কিছুটা সময় দাও’। ঋতিকা পোস্ট মুছে দেন। অনিন্দিতার বক্তব্য, তাঁর কথাগুলো সত্যি এখন বোঝা যাচ্ছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অনিন্দিতা কন্যা নিয়াসা।
