চাষের জমিতে উদ্ধার হল এক পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃতদেহ! জমিতে বিদ্যুতের বিছানো তারে শক লেগেই কি মৃত্যু? সেই প্রশ্ন উঠেছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শিরষি এলাকায়। আজ, শুক্রবার সকালে এলাকার বাসিন্দারা ওই হাতিটিকে জমিতে পড়ে থাকতে দেখেন। বনদপ্তর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন মুখ্য বনপাল (পশ্চিম চক্র) এস কুনাল ডাইভাল ও বনদপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ২৫টি হাতির দল ঘুরছিল। চিলগোড়ার দিক থেকে ওই এলাকার কৃষিজমিতে নেমে পড়েছিল দলটি। এদিন সকালে স্থানীয়রা দেখতে পান, ওই জমিতে একটি পূর্ণবয়স্ক মেয়ে হাতি পড়ে রয়েছে। ওই হাতিটির একটি শাবকও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি দেখেই বনদপ্তরে খবর দেওয়া হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এলাকার মুখ্য বনপাল (পশ্চিম চক্র) এস কুনাল ডাইভাল, মেদিনীপুর বনবিভাগের ডিএফও জোনস জাস্টিন, চিকিৎসক-সহ চাঁদড়া রেঞ্জের বনকর্মী এবং গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশ।
পরীক্ষার পর জানানো হয়, হাতিটি আগেই মারা গিয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই মৃত্যু? ফসলের জমিতে বিদ্যুতের খুঁটিতে তারের বেড়া ছিল। সেই তারের সংস্পর্শে এসেছিল ওই হাতিটি? বিদ্যুতের শক লেগেই বেঘোরে মৃত্যু হল ওই হাতিটির? সেই প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তাই নয়, জমিতে চাষের জন্য রাসায়নিক সার দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। সেই ধানগাছ খাওয়ার পর কি বিষক্রিয়া হয়? সেখান থেকে মৃত্যু? সেই বিষয়টিও উঠে আসছে। চিকিৎসক মৃদুলাল সাহা জানিয়েছেন, সবরকম প্রাথমিক পরীক্ষা নিরিক্ষা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে পরিষ্কার কারণ বোঝা যাবে। মুখ্য বনপাল এস কুনাল ডাইভাল জানিয়েছেন, "সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে। যদি ইলেকট্রিক শকে মৃত্যু হয়, আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বন সুরক্ষা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। কোনওভাবে জমিতে বৈদ্যুতিক তারের বেড়া বরদাস্ত করা হবে না। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
