হাসপাতালে ভর্তির ১০ মিনিটের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছিল রোগীর। সেই মৃতদেহ কাউকে কিছু না জানিয়েই চম্পট দিল পরিবার! হাসপাতালেই পুলিশ ক্যাম্প। হাসপাতালের মধ্যে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্যদের ভিড়। নজরদারিও রয়েছে। এত সবের মধ্যেও কীভাবে ওই ঘটনা ঘটল? খোদ সরকারি হাসপাতাল থেকে এভাবে মৃতদেহ নিয়ে গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা কীভাবে হতে পারে? সেই প্রশ্ন উঠেছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম অজয় সিং। বাড়ি পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বরে। এদিন বেলা প্রায় ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেসময় রোগীর বাবার নাম ভল্লা সিং বলে জানানো হয়েছিল। ভর্তির সময় ওই যুবকের কার্যত সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিল। ১০ মিনিটের মধ্যেই ওই যুবক মারা যান! এরপরই ঘটে নাটকীয় মোড়।
মৃতদেহ না দেখতে পেয়ে টনক নড়ে হাসপাতালের নার্স, ডাক্তারদের। হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফর্মে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে দেখা যায় নম্বরটি ভুয়ো!
অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে, কাউকে কিছু না বলে ওই যুবকের মৃতদেহ নিয়ে চলে যায় পরিবারের লোকজন! কয়েকজন ব্যক্তি মৃতদেহ লিফটে করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যান! মৃতদেহ না দেখতে পেয়ে টনক নড়ে হাসপাতালের নার্স, ডাক্তারদের। হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফর্মে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে দেখা যায় নম্বরটি ভুয়ো! অভিযোগ, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে দিব্যি বেরিয়ে যান তাঁরা। দিনের আলোয় মৃতদেহ ব্যস্ত হাসপাতাল থেকে কীভাবে নিয়ে যাওয়া সম্ভব? সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যেখানে প্রবেশ ও বহির্গমণেরর ক্ষেত্রে একাধিক স্তরের নজরদারি থাকার কথা। সেখানে কীভাবে এমন ফাঁক রয়ে গেল? তাহলে কি বজ্রআঁটুনি ফস্কাগেরো?
হাসপাতালের সুপার প্রকাশচন্দ্র বাগ বলেন, "এভাবে রোগীকে নিয়ে যাওয়া যায় না। হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ নিয়ে চলে যাওয়ার পরেই আমরা পুলিশে যোগাযোগ করি। পুলিশ তদন্তে নেমে ওই যুবকের বাড়িতে যায়।" হাসপাতাল সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের ভয়েই সম্ভবত যুবকের আত্মীয় ও বন্ধুরা আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে দেহ নিয়ে পালিয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
