স্কুলে ছাত্রীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দিতে পূর্ব বর্ধমানের ১০০টি স্কুলে বসানো হচ্ছে অটোমেটিক স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন। একইসঙ্গে থাকবে স্যানিটারি ইনসিনেটর মেশিনও। যার মাধ্যমে ব্যবহৃত ন্যাপকিন বিশেষ পদ্ধতিতে নষ্ট করা হবে। জেলার সর্বশিক্ষা মিশন দপ্তর এই খাতে ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে।
সর্বশিক্ষা মিশন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া ও বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার ৫৩টি স্কুলে এবং বর্ধমান সদর দক্ষিণ ও কালনা মহকুমার ৪৭টি স্কুলে এই আধুনিক যন্ত্র বসানো হবে। প্রতিটি স্কুলে একটি করে অটোমেটিক স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন ও স্যানিটারি ইনসিনেটর মেশিন বসানো হবে। মাস দেড়েকের মধ্যেই এই মেশিন বসানোর কাজ শেষ করা হবে। ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সর্বশিক্ষা মিশন দপ্তর এই উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগেও জেলার বহু স্কুলে এই মেশিন বসানো হয়েছে। এবার আরও ১০০টি স্কুলে এই মেশিন বসানো হবে।
স্কুলে ছাত্রীদের সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দিতে এই মেশিন বসানো হবে। এই বিষয়ে ছাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে আগ্রণী ভূমিকা নিয়ে থাকে।
জানা গিয়েছে, কালনা মহকুমার ২৪টি, কাটোয়া মহকুমার ১৭টি, বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার ৩৬টি ও সদর দক্ষিণ মহকুমার ২৩টি স্কুলে এই আধুনিক যন্ত্র বসানো হবে। বর্ধমান শহরের মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুল, বর্ধমান হরিসভা হিন্দু গার্লস হাইস্কুল, ইছলাবাদ বিবেকানন্দ বালিকা বিদ্যালয় সহ ১৬টি স্কুলে এই মেশিন বসানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এক আধিকারিক জানান, স্কুলে ছাত্রীদের সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দিতে এই মেশিন বসানো হবে। এই বিষয়ে ছাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে আগ্রণী ভূমিকা নিয়ে থাকে।
সরকারি এই উদ্যোগে খুশি ছাত্রী থেকে শিক্ষিকারা। বর্ধমানের এক ছাত্রীর কথায়, "অনেক সময় স্কুলে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় সঙ্গে স্যানিটারি ন্যাপকিন না থাকায়। আবার ব্যাগে করে দিনের পর দিন স্কুলে থা নিয়ে যাওয়াও সমস্যা। স্কুলে মেশিনে ন্যাপকিন পাওয়া গেলে ওই বিশেষ দিনগুলোতে স্কুলে সমস্যায় পড়তে হবে না আমাদের।" আর এক ছাত্রীর কথায়, "খুবই জরুরি স্কুলে এটা থাকা আমাদের স্কুলে এবার মেশিন বসানো হব শুনেছি। খব ভাল উদ্যোগ।"
বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবন গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পামেলা চট্টোপাধ্যায় বলেন, "এটা খুবই ভালো বিষয়। আমাদের স্কুলের ছাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি। প্রায় ২০০০ জনের বেশি ছাত্রী রয়েছে। স্কুলের তরফে স্যানিটারি প্যাডের ব্যবস্থা রাখতে হয়। তবে কোনও ভেন্ডিং মেশিন নেই। কয়েক বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থার তরফে স্কুলে একটি ভেন্ডিং মেশিন দেওয়া হয়েছিল। সরকারি উদ্যোগে স্কুলে ভেণ্ডিং মেশিন দেওয়া হলে ছাত্রীদের খুবই সুবিধা হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাও বাড়বে।"
