প্রথম দেখায় প্রেম - এ তো হয়েই থাকে। কিন্তু প্রেমের পর প্রথম দেখায় কী কী হয়, সেই ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে ধারণা করা সত্যিই কঠিন। অন্তত প্রেমদিবসে এমন এক ছবি ধরা পড়ল, যাতে একথা মনে হতে বাধ্য। কী সেই ছবি? ক্যানিং স্টেশনে দেখা এক প্রেমিকের হাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপের ফাঁকে উঁকি মারছে আধার কার্ড! উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করতেই উন্মোচিত হল আসল কারণ। তা যেমন মজার, তেমনই আজকের প্রজন্মের দায়িত্ববোধের পরিচয়ও। প্রেমদিবসের হাজারও গল্পের মাঝে এ এক ভিন্নস্বাদের কাহিনি।
১৪ ফেব্রুয়ারি পৃথিবী জুড়ে ভ্যালেন্টাইনস ডে-র তুমুল উদযাপন। প্রেমে পড়া অথবা প্রেমে থাকা যুগলের কাছে এক বিশেষ দিন। হ্যাঁ, বিশেষ দিনই। 'ভালোবাসার আবার বিশেষ দিন আছে নাকি?' নীরস লোকজনের এহেন একঘেয়ে কথাবার্তা বাদ দিলে আজ সত্যিই প্রেমের দুনিয়ায় আজ বসন্ত! ফাগুনের গুনগুনানি। পয়লা ফাগুনেই নাকি প্রেমের মরশুম শুরু। তাই এই দিনটা আলাদাভাবে সেলিব্রেট না করে উপায় নেই। এমন দিনেই তো 'তারে বলা যায়'। আবার প্রেমের কথা প্রকাশ করে ফেলার পরও এমন দিনেই তার সঙ্গে প্রথম তার চোখে চোখ রাখা যায়। একগুচ্ছ লালগোলাপে এঁকে দেওয়া যায় আপন হৃদয়ের রঙিন ছবি।
ক্যানিং স্টেশনে দেখা এক প্রেমিকের হাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপের ফাঁকে উঁকি মারছে আধার কার্ড! উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করতেই উন্মোচিত হল আসল কারণ। তা যেমন মজার, তেমনই আজকের প্রজন্মের দায়িত্ববোধের পরিচয়ও।
এমন দৃশ্যই যেখানে মুহুর্মুহু রচিত হচ্ছে প্রেমের জগতে, সেখানে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে হাতে উপহার থাক বা না থাক, আধার কার্ড কিন্তু মাস্ট! অবাক হলেন শুনে? প্রেমদিবসে এ ছবিও কিন্তু একেবারে খাঁটি। চেনা ক্যানিং স্টেশনের অচেনা ছবি। শনিবার যে ছবি এঁকে গেল সদ্য যৌবনে পা দেওয়া ভালোবাসায় ভরপুর দুই ছেলেমেয়ে। সুদূর সুন্দরবন থেকে সোনারপুর যেতে ক্যানিং স্টেশনে পৌঁছেছেন এক যুবক। নাম রোহন দাস (নাম পরিবর্তিত)। বাড়ি সুন্দরবনের রজতজুবলি গ্রামে। সদ্য কলেজে পড়া ওই যুবকের প্রেমিকা সুস্মিতা বসু (নাম পরিবর্তি) সোনারপুরে থাকেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য উপস্থিত হয়েছেন রোহন। সোশাল মিডিয়ায় আলাপ, প্রেমের পর আজই তাঁদের প্রথম দেখা।
প্রেমিক জানালেন, ''আমাদের সম্পর্ক হয়েছে সোশাল মিডিয়াতে। মূলত সামাজিক মাধ্যমে আলাপ হওয়ায় আমি এখনও তাকে স্বচক্ষে দেখিনি। সেও আমাকে দেখেনি। ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে আমরা তাই আজ একে অপরের সঙ্গে দেখা করব। কিন্তু বারবার আমার প্রেমিকা প্রশ্ন করেছে আমার সঠিক পরিচয় নিয়ে। তাই আমি আধার কার্ড নিয়ে উপস্থিত হয়েছি তার সাথে দেখা করতে। বাড়ি থেকে আধার কার্ড নিয়ে বেরিয়েছিলাম আর ক্যানিংয়ে এসে লাল গোলাপ কিনলাম।''
কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকার হাতে আধার কার্ড কেন? রোহন জানালেন, ''আমাদের সম্পর্ক হয়েছে সোশাল মিডিয়াতে। মূলত সামাজিক মাধ্যমে আলাপ হওয়ায় আমি এখনও তাকে স্বচক্ষে দেখিনি। সেও আমাকে দেখেনি। ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে আমরা তাই আজ একে অপরের সঙ্গে দেখা করব। কিন্তু বারবার আমার প্রেমিকা প্রশ্ন করেছে আমার সঠিক পরিচয় নিয়ে। তাই আমি আধার কার্ড নিয়ে উপস্থিত হয়েছি তার সাথে দেখা করতে। বাড়ি থেকে আধার কার্ড নিয়ে বেরিয়েছিলাম আর ক্যানিংয়ে এসে লাল গোলাপ কিনলাম।'' বছর কুড়ি যুবকের হাতে গোলাপের সঙ্গে আধার কার্ড দেখে অনেকেই বিস্মিত। কেউ কেউ ফিসফিস করছেন। কিন্তু তাতে রোহনের কর্ণপাত নেই। কারণ, তাঁর কানে যে হেডফোন গোঁজা। ক্যানিং স্টেশন থেকে সোনারপুরের টিকিট কেটে সোজা টেনে চড়ে বসেছেন তিনি।
চারপাশে এসআইআর হাওয়া। মানুষের সঠিক পরিচয় যাচাই করতে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন। নাগরিকত্ব নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় থাকলে ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাই হবে নাম। কিন্তু ভালবাসার দিনে মনের মানুষকে যাচাই করতে আধার কার্ড! ব্যাপারটা তেমন ভালো না লাগলেও সেটাই ঘটেছে বাস্তবে। প্রেমিকার মন রাখতে প্রেমিক একাই কি আধার কার্ড নিয়ে উপস্থিত হলেন নাকি প্রেমিকাও নিজের পরিচয়ের প্রমাণ দিতে আধার কার্ড নিয়ে উপস্থিত ছিলেন কিনা, তা জানা গেল না।
