এসআইআর নিয়ে অসন্তোষের জেরে ফরাক্কা বিডিও দপ্তরে ভাঙচুর ও আধিকারিকদের হেনস্তা করার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামের (Monirul Islam) প্রতি রুষ্ট নির্বাচন কমিশন। বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার জন্য মুর্শিদাবাদ জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও নির্দেশের ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলেও বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনও মামলা রুজু হয়নি ফরাক্কা থানায়। শুক্রবার দুপুরে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে জঙ্গিপুর মহকুমা শাসককে নির্দেশ দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া। জানা গিয়েছে, বিধায়কের বক্তব্য তদন্ত করে দেখবেন জঙ্গিপুর মহকুমা শাসক।
এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়ার পরে জঙ্গিপুর মহকুমা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফরাক্কার বিধায়ক। এসআইআরের কাজের দায়িত্বে থাকা ইআরও-কে পাঠানো চিঠিতে মনিরুল জানান, নির্বাচন কমিশন, তাদের আধিকারিক এবং ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি সর্বদা সংবিধান মেনে চলেন এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন। তবে কোথাও হয়তো শব্দচয়ন ভুল হয়েছিল। গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসের সামনে যা বলেছিলেন, তা নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা নষ্টের উদ্দেশ্যে বলেননি। ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করাও তাঁর উদ্দেশ্য নয়।
এরপর শুক্রবার বিকেলে নিউ ফরাক্কা এমএলএ ভবনের সামনে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের এক সভায় বিরোধীদের তোলা গ্রেপ্তারির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মনিরুল ইসলাম যেখানে আছে সেখানে কারও কোনও চিন্তার কারণ নেই। সবার জন্যই আইনের দরজা খোলা আছে। আইনের মাধ্যমে লড়াই হবে।” যদিও তদন্তের নির্দেশের ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন মনিরুল। ইআরওকে চিঠিতে মনিরুল লেখেন, "আমার বক্তব্যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য, উসকানি বা আইন ভাঙার চেষ্টা ছিল না। যদি কেউ ভিন্ন অর্থ করে থাকেন, তবে তা আমার অনিচ্ছাকৃত। আমি সব সময় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তাদের দেওয়া সমস্ত আইনসম্মত নির্দেশ মেনে চলব।"
