বাঘের সঙ্গে লড়াই! মনের জোর না ধরে রাখলে নিশ্চিত মৃত্যু এড়ানো যাবে না, এমনই আন্দাজ করেছিলেন ওই মৎস্যজীবী। নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি! শেষপর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিল সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। জখম ওই ব্যক্তি হাসপাতালে এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন। তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত রয়েছে। বাঘের সঙ্গে লড়াইয়ের ঘটনায় চোখেমুখে আতঙ্ক অন্যান্য মৎস্যজীবীদের। ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবনের জঙ্গলে।
পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানা এলাকার জি-প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের সত্যদাসপুরের বাসিন্দা বছর ৩২ এর ওই মৎস্যজীবী বিনু ভক্তা। এলাকার ১২ জন মৎস্যজীবীর সঙ্গে তিনিও সুন্দরবনের খাঁড়িতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। গতকাল, বুধবার সকালে কলস দ্বীপের কাছে বিজয়ওয়াড়ার জঙ্গল লাগোয়া খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরছিলেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, নদীর ধার দিয়ে তাঁরা হেঁটে যাচ্ছিলেন। অতর্কিতে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বন থেকে বেরিয়ে তাঁদের আক্রমণ করে!
বিনু ভক্তাকে সামনে পেয়ে যায় বাঘটি। তাঁর উপরই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দক্ষিণরায়। বাঘটি তাঁকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাঘের থাবায় বিনুর শরীরের একাধিক জায়গায় ক্ষত দেখা যায়। রক্ত ঝরতে থাকে। প্রতিরোধ না করলে নিশ্চিত মৃত্যু, বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। বাঘের হানায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন অন্যান্য মৎস্যজীবীরাও। চোখের সামনে ওভাবে বাঘের আক্রমণ দেখে থমকে গিয়েছিলেন তাঁরা। এদিকে প্রাণে বাঁচতে বাঘের সঙ্গে লড়াই শুরু করেছেন বিনু। মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কাঁকড়া ধরার যন্ত্র, লাঠিসোঁটা ছিল। সেসব নিয়ে অন্যান্যরাও বাঘের উপর কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ওই হামলায় বাঘও সম্ভবত হতচকিত হয়ে পড়ে। এদিকে মৎস্যজীবীরা লাঠি দিয়ে বাঘের গায়ে আঘাত করতে থাকে। ক্রমাগত হামলায় শেষপর্যন্ত রণে ভঙ্গ দেয় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। শিকার ছেড়ে বনে ভিতর ঢুকে পড়ে সেটি। এদিকে বাঘের থাবার আঘাত, কামড়ে বিনুর শরীর রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত। সঙ্গীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নৌকায় তুলে লোকালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গুরুতর আহত মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় পাথরপ্রতিমায়। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মাধবনগর গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানেই ভর্তি করা হয় বিনুকে।
কিন্তু শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত রয়েছে। শরীর থেকে রক্তও বেরিয়েছে অনেকটাই। সেজন্য বিনুকে পরে কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। বাঘের কবল থেকে বেঁচে ফিরেছেন তিনি! তেমনই বলছেন সঙ্গীরা।
