একের পর এক আশ্বাস মিললেও কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হল না। নয় আসনের বিমান চালানোর দায়িত্বে থাকা সংস্থা ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার এর পক্ষ থেকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ৩১ জানুয়ারির পর তারা আর বিমান কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে চালাবেন না। তাদের ঘোষণামতো শুক্রবার কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে কলকাতার রুটে নয় আসনের বিমান চলাচল পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে গেল। যদিও জানুয়ারি মাসে মাত্র একদিন বিমানটি নেমেছিল। তবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়ের পক্ষ থেকে বহু আশ্বাস মিলেছিল। তবে কোনওটাই কার্যকর হয়নি। স্বাভাবিকভাবে হতাশ কোচবিহারের বাসিন্দারা।
এই বিমানবন্দর পরিদর্শন করে বিজেপি রাজ্যসভা সাংসদ তথা রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আশ্বাস দিয়েছিলেন বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলবেন। কোচবিহার বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক শুভাশিস পাল জানিয়েছেন, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিমানবন্দর থেকে বিমান চালানোর কথা ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার-এর ছিল। সেই মতো তারা আগে নোটিশ দিয়ে জানিয়েছিল। যেহেতু তারা আর বিমান চালাবে না তাই তাদের আসবাবপত্র গুটিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেগুলো তারা গুটিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
তবে নতুন করে কোনও বিমান সংস্থা এখনও কোচবিহার থেকে বিমান চালানোর বিষয়ে উদ্যোগী হয়নি। নয়ডার একটি বিমান সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছিল। তবে তারাও পরিদর্শনে আসার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন সম্মতি দেয়নি। স্বাভাবিকভাবে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিমানবন্দরটি নন অপারেশনাল হয়ে গেল।
২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নয় আসনের বিমান পরিষেবা কলকাতা কোচবিহারের মাঝে শুরু করা হয়েছিল। বিমানটি অত্যধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং যাত্রী চাহিদা আকাশ ছোঁয়া ছিল। তবে উড়ান প্রকল্পের নতুন করে নবীকরণ এই বিমানবন্দরের হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আছে। তার মাঝখানেই এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেল স্বাভাবিকভাবে ফের একবার হতাশ রাজার শহর কোচবিহার এর বাসিন্দারা। যদিও তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে বিমান পরিষেবা চালু করা যায়।
