দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: দাবি ছিল নগদ ২৫ হাজার টাকার। তার মধ্যে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দিয়েছিলেন গৃহবধূর পরিজনেরা। বকেয়া ছিল ১০ হাজার টাকা। আর সেই টাকা না পাওয়ায় গৃহবধূকে খুনের অভিয়োগ উঠল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। খুনের (Murder) কথা জানাজানির পর থেকেই পলাতক স্বামী-সহ গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা। তাই খুনের সন্দেহ যেন আরও জোরাল হয়েছে।
মগরাহাটে বাপের বাড়ি সরফা খাতুন নামে ওই মহিলার। বছর চারেক আগে বারুইপুরের চম্পাহাটির বাসিন্দা পেশায় ফল ব্যবসায়ী সরিফুল সর্দারের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তাঁদের তিন বছরের একটি পুত্রসন্তানও আছে। অভিযোগ, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেব মোটরবাইক, সোনার গয়না ও নগদ টাকা দেওয়া হয়। বিয়ের তিন-চার মাসের মাথায় ফের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না পেলেই মারধর করা হত। বাপের বাড়ির লোকজনের কাছে সেকথা জানান তিনি।
[আরও পড়ুন: Viral Video: পাতে আস্ত পুরুষাঙ্গ! হোটেল থেকে আনা প্রিয় খাবার খেতে গিয়ে ক্ষুব্ধ মহিলা]
অভিযোগ, এরই মাঝে গত মাসে নতুন করে ২৫ হাজার টাকা দাবি করতে থাকে গৃহবধূর স্বামী। কোনওক্রমে জোগাড় করে তাকে ১৫ হাজার টাকা দেয় সরফার বাড়ির লোকজন। বাকি ১০ হাজার জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। তাই তা তাঁরা দিতে পারছিলেন না। এদিকে, সরফার উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার ক্রমশ বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ। টাকা না দেওযায় ব্যাপক মারধর করা হয় সরফাকে।
সম্প্রতি বাপের বাড়িতে ভিডিও কল করেন সরফা। তবে এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি যে কথা বলার মতো ক্ষমতাও ছিল না। ইতিমধ্যেই প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সরফার খবর নেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন। চম্পাহাটিতে পৌঁছে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরফার নিথর দেহ দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তে পাঠায়। নিহতের পরিজনদের দাবি, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা পণ না পাওয়ায় খুন করেছে তাঁকে। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্তরা। তাদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।
