বাড়ির গেটে বিজেপি নেতার রাজনৈতিক বার্তা। তাতে স্পষ্ট ঘোষণা, তৃণমূল দলের কোনও কর্মী-সমর্থকের জায়গা বিজেপিতে নেই। এই অনুরোধ নিয়ে যেন তাঁর বাড়িতে না আসেন তৃণমূল কর্মীরা। তাঁর বাড়ির চারপাশে ঘোরাঘুরি করে কোনও লাভ নেই। তাঁকে যেন বিব্রত করা না হয়। একটি ব্যানারে এই বার্তা লিখে নিজের বাড়ির সামনে টাঙিয়ে দেন ওই বিজেপি নেতা। বর্ধমান শহরের শাঁকারিপুকুর এলাকায় এই ব্যানারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
ওই বিজেপি নেতার নাম মানস কুমার দে। তিনি বিজেপির ৪ নম্বর নগর মণ্ডলের সহ-সভাপতি। তাঁর দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর বহু তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক নানা অনুরোধ নিয়ে তাঁর বাড়িতে আসছেন। সেই কারণেই এই ব্যানার লাগানো হয়েছে। মানসবাবুর কথায়, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে রয়েছি। অতীতে বিজেপি কর্মীদের একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বদলাতে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছেন, তাঁদের দলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সেই বার্তাই দিতে চেয়েছি।’’
মানসবাবু ব্যানারে আরও উল্লেখ করেছেন, বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই তিনি এই অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের কোনও কর্মী বা সমর্থককে ব্যক্তিগত অনুরোধ নিয়ে তাঁর বাড়িতে না আসার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। যদিও তৃণমূল এই দাবিকে রাজনৈতিক প্রচারের কৌশল বলেই ব্যাখ্যা করেছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডুর অভিযোগ, ‘‘পালাবদলের পরে বিজেপিই আমাদের কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ভয় দেখিয়ে দলবদলের চেষ্টা চলছে। আবার এই ধরনের পোস্টার লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রচারও করা হচ্ছে।’’
একটি আবাসিক এলাকার মধ্যে এমন রাজনৈতিক বার্তাবাহী ব্যানার ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ইতিমধ্যেই ব্যানারের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজ্যে পালাবদলের পর দলবদল ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের জল্পনার আবহে শাঁকারিপুকুরের এই ব্যানার নতুন করে সেই বিতর্ককেই উসকে দিয়েছে।
