অর্ণব দাস, বারাসত: বছর দুই ধরে অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত স্বামী। পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে রোজ লড়াই করে দিনযাপন করছেন স্ত্রী। সম্প্রতি শোনা গিয়েছে, স্বামী ওই মহিলার সঙ্গেই থাকেন। আর এই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সম্পর্কের প্রতিবাদ করে থানায় নালিশ জানাতে যাচ্ছিলেন স্ত্রী। এহেন কাজের চরম শাস্তি পেতে হল তাঁকে! দিনেদুপুরে রাস্তায় টোটো থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ-নন্দাইয়ের বিরুদ্ধে। রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজের সেই ভিডিও দেখে শিউরে উঠছেন অনেকে। ওই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্তে নেমেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ।
মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল
ঘটনাস্থল দেগঙ্গা থানার কার্তিকপুর এলাকার। আক্রান্ত তরুণীর নাম সাবিনা খাতুন, বয়স ২৭ বছর। সাবিনার দাবি, তাঁর স্বামী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে বছর দুই আগে থেকে এক মহিলার সঙ্গে থাকেন। তাঁকে এবং তার পাঁচ বছরের শিশুর কোনও খরচ স্বামী কিংবা শ্বশুর বাড়ির কেউ দেন না। তিনি নিজে সেলাই করে উপার্জন করেন। ছেলের পড়াশোনা এবং নিজের সংসার চালান। স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকে শ্বশুর, শাশুড়ি তাঁর উপর অত্যাচার, মারধর করে বলে অভিযোগ সাবিনার। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় শনিবার সাবিনা ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। টোটোয় চোড়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে যাচ্ছিলেন।
অভিযোগ, সাবিনা পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন, সেই খবর পেয়ে ননদ ও নন্দাই তাঁকে পথের মাঝে আটকান। টোটো থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে রাস্তার উপর মারধর করা হয়। বুট দিয়ে লাথি মেরে, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ননদ ও নন্দাই তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করা হয়। শরীরের একাধিক অংশে আঘাত থাকায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলে। কিন্তু সাবিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বারাসত জেলা হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। রক্তাক্ত অবস্থাতেই তিনি গোটা ঘটনা জানিয়েছেন।
মারধরের জেরে রক্তাক্ত গৃহবধূ সাবিনা। নিজস্ব ছবি
সাবিনার কথায়, ''আমার স্বামী দুবছর ধরে অন্য এক মহিলার সঙ্গে থাকে। আমার বা ছেলের জন্য কোনও টাকাপয়সা দেয় না। আর আমি ছেলেকে নিয়ে একা থাকি বলে শ্বশুর-শাশুড়ি খুব অত্যাচার করে। স্বামীকে অনেকবার টাকাপয়সা দেওয়ার কথা বলেছি। লাভ হয়নি। আমি নিজে সেলাই করে খরচ চালাই। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমি থানায় অভিযোগ জানাতে যাচ্ছিলাম। তা জানতে পেরে শ্বশুর-শাশুড়ি ফোন করে ননদকে। সে আর তার বর এসে টোটো থেকে মাঝরাস্তায় নামিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। আমার এই অবস্থা করে।'' ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। দেগঙ্গা থানায় পরিবারের চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ।
