র্যাগিং-র শিকার হলেন দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক ডাক্তারি পড়ুয়া! পুরুলিয়ার ওই মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়াকে র্যাগিং করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের ১৪ থেকে ১৫ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত ডাক্তারি পড়ুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান দুই অভিযুক্ত পড়ুয়াকে সাসপেন্ড করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী বলেন, "আক্রান্ত ছাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় অভিযুক্ত দুই পড়ুয়াকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।"
মুর্শিদাবাদের ডোমকলের বাসিন্দা পীড়িত মেহবুব ইসলাম ওই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রথম পর্ষের পড়ুয়া। অভিযোগ কয়েকদিন ধরেই তার উপর র্যাগিং করছিল ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ঋষভকুমার সিং ও চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়া অয়নকুমার বাগচি। তবে চরম আকার নেয় রবিবার মধ্য রাতে। কলেজের বয়েজ হোস্টেল ক্যাম্পাসে ওই দু'জনের নির্দেশে ১৪ থেকে ১৫ জন পড়ুয়া তার উপর চড়াও হয়! নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। যাতে মেহবুবের পিঠে একাধিক কালশিটে দাগ পড়ে যায়! সোমবার ওই পড়ুয়া চিকিৎসা করানোর পাশাপশি সমগ্র বিষয়টি কলেজের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর শুক্রবার আক্রান্ত পড়ুয়ার বাবা-মা পুরুলিয়ায় পৌঁছন। এদিন এই বিষয়কে নিয়ে অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত পড়ুয়াদের নিয়ে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর দুই পড়ুয়াকে এই কলেজ থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে পুরুলিয়ায় ডাক্তারি পড়ুয়ার এই র্যাগিংয়ের ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেদিকে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।
