কয়েক ঘণ্টাতেই নেতিয়ে পড়ে রাজ্যের ইটালি। আর মিনিপল-র স্থায়িত্ব ২ থেকে ৪ দিন। তাই ১৫ দিনের বেশি একেবারে সতেজ থাকা ডাচ গোলাপ-ই পছন্দ বাংলার প্রেমিক-প্রেমিকার। তা-ই বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে ডাচ গোলাপ এল বাংলায়। প্রেমের সপ্তাহে চাহিদা যে ১ কোটি! তাই ভালোবাসার সপ্তাহ শুরুর আগে শুক্রবার রাজ্যের ফুলের খুচরো বাজারে এক একটি ডাচ গোলাপের দাম উঠলো ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।
তবে কলকাতা মল্লিকঘাট ফুল বাজারে পাইকারিতে একটি ডাচ গোলাপ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়। তবে একটি সাদা ডাচ গোলাপ ওই বাজারে ৫০ টাকা ছুঁয়েছে। আর পাঁশকুড়া ফুলবাজারে ১০০ গ্রাম এই ডাচ গোলাপ রঙভেদে বিক্রি হয়েছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। আসলে এদিন বিয়ের লগ্ন আর রোজ ডে-র প্রাক্কালে গোলাপের ফুল বাজার এমন ঊর্ধ্বমুখী।
তাই বলে কি আজ শনিবার রোজ ডে-তে মনের মানুষকে গোলাপ দিয়ে প্রেম নিবেদন করবেন না? সঙ্গী যে একেবারে নাছোড়বান্দা! সদ্য প্রেমে ডুবে থাকা প্রেমিক- প্রেমিকা থেকে খানিক রোমান্টিক অ্যাঙ্গেলে থাকা বান্ধবী। এমনকি বিয়ে করা বৌ। এই রোজ ডে-র দিকেই যেন তাকিয়ে থাকেন। তাই ভালোবাসার সপ্তাহে প্রেমের জোয়ারে ভাসতে শুক্রবার বিকেল থেকেই ডাচ গোলাপ কেনার হিড়িক দেখা গেল কলকাতা-শহরতলি থেকে প্রান্তিক পুরুলিয়াতেও। পশ্চিমাঞ্চল বোলপুর, বর্ধমান সহ উত্তরবঙ্গেও। অফিস যাওয়া প্রেমিক যুগল সকালের তাড়াহুড়োয় পাছে ভুলে যান। তাই এদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার সময় ওই দামি গোলাপ কিনে ব্যাগে যত্ন করে রেখে দেন। আজ রোজ ডে-র সকালেই যে একেবারে হাঁটু গেড়ে লাল-গোলাপি রঙা গোলাপে প্রেম নিবেদন। তবে শুধুই কি প্রেম? রোজ ডে-র শুভেচ্ছাতেও লাল গোলাপের যে জুড়ি নেই। তাই মল্লিকঘাট ফুলবাজারে এক একটি মিনিপল লাল গোলাপও এদিন পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে ১২-১৩ টাকায়।
গোলাপি মিনিপলের দাম আরও বেশি ১৪ থেকে ১৬ টাকা। ম্যাট গোল্ড ১২ থেকে ১৫। আর মিনিপল জেলার খুচরো বাজারে বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ টাকায়। ইটালি খুচরো বাজারে বিক্রি হয়েছে এক-একটি ১০ টাকায়। সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, "এই ভালোবাসার সপ্তাহে রাজ্য জুড়ে গোলাপ ফুলের চাহিদা থাকে প্রায় ১ কোটি। ইদানিং দেখা যাচ্ছে ডাচ গোলাপ সবচেয়ে বেশি পছন্দ বাংলার প্রেমিক যুগলের। তাই বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে ওই ডাচ গোলাপ বাংলার বাজারে এসেছে। কিছু ডাচ গোলাপ অবশ্য ট্রেনেও এসেছে। মল্লিকঘাট ফুল বাজারে এক একটি ডাচ গোলাপ পাইকারিতে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরোতে স্বাভাবিকভাবে আরও বেশি। রোজ ডে-তে দাম আরও বাড়বে।" মল্লিকঘাট থেকে যেমন বিভিন্ন জেলার ফুলবাজারে গোলাপ গিয়েছে। তেমনই ওই ডাচ গোলাপ পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার ফুলবাজার থেকেও দক্ষিণ- সহ উত্তরেও যায়। এখনও ডাচ গোলাপ মজুত রয়েছে রাজ্যের একমাত্র ফুলের হিমঘর পাঁশকুড়ায়।
এই ডাচ গোলাপের ডাঁটা প্রায় ১৪-১৬ সেন্টিমিটার থাকে। তাই কন্টকবিহীন এই গোলাপ সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ এমন কি তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। ভালোবাসার সপ্তাহে খুচরো বাজারে তা ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি হয়ে যায়। জলে রেখে দিলে প্রায় দিন ১৫ সতেজ থাকে। এমনকি ২০ দিন থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। একেবারে গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে ২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে এই গোলাপের চাষ হয়ে থাকে। যেখানে যায় না রোদ্দুর। ফুলের পাপড়িতে বৃষ্টির ছিটেফোঁটাও লাগে না। তাইতো এই পাপড়ি দিয়েই পুরুলিয়াতে 'ভ্যালেন্টাইন্স উইক'-র প্রাক্কালে চুলের খোপায় বিক্রি হচ্ছে বেণী। এক একটির দাম ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা। শহর পুরুলিয়ার চকবাজারের ফুল বিক্রেতা বিশ্বজিৎ জানা বলেন, " এক একটি ডাচ গোলাপ যেমন বিক্রি হচ্ছে। তেমনই ওই গোলাপের পাপড়ি দিয়ে এই ভালোবাসার সপ্তাহে বেণী এখন ট্রেন্ডিং। এই বেণীর বরাত মিলেছে প্রচুর।"
এই ডাচ গোলাপ আবার 'বেঙ্গালুরু রোজ' নামেও পরিচিত। কর্নাটকের তুমাকুরু, আনেকল এলাকায় এই গোলাপের চাষ হয়ে থাকে। শুধু দেশেই যে রপ্তানি হয় তা কিন্তু নয়। মার্কিন মুলুকেও যায় এই ডাচ। সেই সঙ্গে দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড-এ। এমনই কদর ডাচের! রঙ অনুযায়ী রয়েছে নানান নাম। লাল, গোলাপি ছাড়া অফ হোয়াইটও প্রেমের জোয়ারে বেশ নজরকাড়া। তাই এই রঙা গোলাপ
'অ্যাওয়ালেন্স', লাল 'তাজমহল', গোলাপি 'নবলেস' আর হলুদ রঙা 'গোল্ড স্ট্রাইক' গোলাপের বাজারে পরিচিত।
