বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কল্যানীর এইমস হাসপাতাল। নদিয়া জেলার কল্যাণী বিধানসভার অন্তর্গত এইমস হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। এই ঘটনায় বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে। ভিড় জমতে থাকে হাসপাতাল চত্তরে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা কাঁচরাপাড়া পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবীনপল্লি এলাকার বাসিন্দা দুরন্ত মুখার্জী। তাঁর ছ'মাসের শিশুকন্যা ঋদ্মিতা মুখার্জিকে নিয়ে আসেন কল্যাণী এইমস হাসপাতালে। গত দু'দিন আগে অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে ঠান্ডা লাগা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে এইমস হাসপাতালে ভর্তি হয় ওই শিশু। সেখানেই শুরু হয় তাঁর চিকিৎসা।
অভিযোগ, চিকিৎসা চলাকালীন বৃহস্পতিবার কল্যাণী এইমস হাসপাতাল থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করা হয়। ফোনেই তাঁদের জানানো হয়, ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতাল চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। পাশাপাশি, হাসপাতাল ক্যাম্পাসেই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, সামান্য ঠান্ডা জ্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছিল তাদের কন্যা। বুধবার রাতে সে ভাল ছিল। তাহলে হঠাৎ এমন কী হলো?
তাঁদের অভিযোগ, সঠিক চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন, এইমসের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা সেগুলো কিছুই করেনি। বারংবার চিকিৎসকদের বলা হলেও তাঁরা বিষয়টির দিকে নজর দেননি। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন চিকিৎসক এবং হাসপাতালে কর্তব্যরত সিকিউরিটি আধিকারিকরা। ওই শিশুর চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুকন্যার।
মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফোনে জানানো হয় ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বা চিকিৎসকদের সঙ্গে বারংবার কথা বলতে চাইলেও পরিবারের সদস্যদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এখানেও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রতিবাদ জানিয়ে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যরা। এরফলে, কল্যাণী এইমস হাসপাতাল চত্বরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতির সামাল দিতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে খবর দেওয়া হয় কল্যাণী থানার অন্তর্গত গয়েশপুর পুলিশ ফাঁড়িতে। ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
