সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বুলন্দশহরে পুলিশ মৃত্যুর ঘটনায় ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। এরই মধ্যে বুলন্দশহর হত্যাকাণ্ডে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামের সভা থেকে তিনি বলেন, বুলন্দশহরে পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে খুন করা হয়েছে।

[বুলন্দশহর কাণ্ডে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত, তদন্ত রিপোর্ট চাইলেন যোগী]
বুলন্দশহরের ঘটনায় অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব উসকে দিয়েছেন খোদ উত্তরপ্রদেশেরই আধিকারিক। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের অন্যতম আধিকারিক রাজকুমার ভাস্কর বলেন, “সম্ভবত এই ঘটনা ঘটানোর জন্যই ইচ্ছাকৃত ভাবে মাঠের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল গরুর মৃতদেহ৷ কারণ, যদি কেউ গরুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তিনি নিশ্চয়ই ফাঁকা মাঠের মধ্যে এগুলিকে ফেলে রাখবেন না৷ আর রাজ্যের পূর্ববর্তী পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখলে কোনও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের পক্ষে এই কাজ করা সম্ভবপর নয়৷ তাই মনে হয়, সংঘর্ষ বাধানোর ছকেই এমন কাজ করা হয়েছে৷” এদিন মুখ্যমন্ত্রীর গলাতেও এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগই শোনা গোল। মমতা বললেন, “বিজেপি অসমে বাঙালি তাড়াচ্ছে, গুজরাটে বিহারী তাড়াচ্ছে, দেশ থেকে কখনও হিন্দুকে তাড়াবে কখনও মুসলিমকে তাড়াবে। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে গোরক্ষার নামে পুলিশকে খুন করেছে। আমরা এ ব্যপারে সহমর্মী, ওর পরিবারের প্রতি সমবেদনা আমার আছে।” বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ-ও এদিন মুখ খোলেন এই ঘটনা নিয়ে। অমিত শাহ বলেন, “এই ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক, সিট গঠন করা হয়েছে এবং এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।” যদিও, অমিত শাহ-র তদন্তের আশ্বাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি কতটা শান্ত হবে তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।
[বুলন্দশহর গণধর্ষণ-কাণ্ড: মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আর্জি]
এদিকে, বুলন্দশহরের ঘটনার তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। ঘটনার একদিন আগে থানায় গোহত্যার অভিযোগ তুলে একটি অভিযোগ দায়ের করেন বজরং দলের এক সদস্য। সেই এফআইআরে নাম ছিল ১১ বছর ও ১২ বছরের দুই কিশোরের। তাদের নাকি থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ বা ১২ বছরের কিশোর কীভাবে গোহত্যা করতে পারে? সে ক্ষেত্রে এই অভিযোগের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।