shono
Advertisement
Daspur

বিয়ের আগের দিন জেঠিমার মৃত্যু, পাড়ার ক্লাবে দেহ ফ্রিজারে রেখে ছাঁদনাতলায় বর! জানাজানি হতেই...

সোমবার মারা গিয়েছেন জেঠিমা। এদিকে বাড়িতে মঙ্গলবারই ওই বাড়ির ছেলের বিবাহ। তাহলে কি বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করা হবে? শেষপর্যন্ত ফ্রিজারে জেঠিমার মৃতদেহ রেখেই বিয়ে করতে গেল ছেলে। বিয়ের পর নতুন কনেকে নিয়ে হাজির হলেন ছেলে।
Published By: Suhrid DasPosted: 03:07 PM Feb 04, 2026Updated: 03:50 PM Feb 04, 2026

সোমবার মারা গিয়েছেন জেঠিমা। এদিকে বাড়িতে মঙ্গলবারই ওই বাড়ির ছেলের বিবাহ। তাহলে কি বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করা হবে? শেষপর্যন্ত ফ্রিজারে জেঠিমার মৃতদেহ রেখেই বিয়ে করতে গেল ছেলে। বিয়ের পর নতুন কনেকে নিয়ে হাজির হলেন ছেলে। আগামী কাল, বৃহস্পতিবার ওই বাড়িতে বউভাতের অনুষ্ঠানও রয়েছে। জেঠিমার মৃতদেহ ফ্রিজারে রেখে বিয়ে করতে যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন, চর্চা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে।

Advertisement

দাসপুরের চাঁইপাট বেলডাঙা গ্রামের বাসিন্দা রিতা আলু। সোমবার দুপুরে তিনি মারা যান। এদিকে ওই বাড়িরই ছেলে সৌরেনের বিয়ে পরের দিন মঙ্গলবার। বিয়ের জোগাড়যন্ত্র সব হয়ে গিয়েছে। শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গেলে দুই বাড়ির তরফেই অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। সেজন্য বিয়ে বন্ধ হয়নি। বদলে দেহ সৎকার না করে ফ্রিজারের মধ্যে রাখা হল। পরদিন বিয়ে করতে গেলেন সরোজ আলুর ছেলে সৌরেন। রিতা সম্পর্কে সৌরেনের জেঠিমা। নতুন বউ নিয়ে বাড়িতেও ফিরেছেন তিনি!

কিন্তু মৃতদেহ রাখা হয়েছে কোথায়? জানা গিয়েছে, রিতার মৃত্যুর পর ফ্রিজার ভাড়া করে আনা হয়। অনুষ্ঠানের বাড়িতে মৃতদেহ রাখা যায় না! সেই ভেবেই এলাকারই ক্লাবে ফ্রিজারের মধ্যে রাখা হয় রিতার মৃতদেহ। প্রথম দিকে এই বিষয়টি সকলে জানতেন না। পরে কথায় কথায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বৃহস্পতিবার ওই বাড়িতে বউভাতের অনুষ্ঠান। কতদিন দেহ ফ্রিজারে রাখা হবে? এই প্রশ্নও তুলেছেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। খবর দেওয়া হয় দাসপুর থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারীরা।

এদিকে মৃতার পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, রিতার ছয় মেয়ে। দুই মেয়ে বাইরে থাকেন। মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে তাঁরা বিচলিত হয়ে দাসপুরের উদ্দেশ্যে রওনাও হন। মেয়েরা না এলে মৃতদেহ দাহ হবে না, এমনই সিদ্ধান্ত পরিবারের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপরই ফ্রিজার ভাড়া করে মৃতদেহ ওই ক্লাবঘরে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আনন্দ নয়, প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়েই ওই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। সকলের সম্মতিতেই শেষপর্যন্ত ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেয়েরা বাড়ি এলেই দাহকার্য হবে, সেই কথাও পরিবারের তরফে জানানো হয়। পুলিশও গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement