স্কুটির নম্বর প্লেট ঢেকে হাওড়ার বিভিন্ন নির্জন রাস্তায় হেঁটে যাওয়া একাকী তরুণীরাই ছিল তাঁর টার্গেট! একের পর এক শ্লীলতাহানির ঘটনায় ইতিমধ্যে অভিযুক্ত রজপ্রিয় সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাঁকে। হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিকদের দাবি, একের পর এক ঘটনায় ধৃতের বিকৃত মনস্ক অপরাধ লুকিয়ে রয়েছে। অন্তত ধৃত রজপ্রিয় সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে তেমনটাই মনে হয়েছে তদন্তকারীদের। অন্যদিকে বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অনন্যা ভট্টাচার্যের দাবি, ঘটনায় হয় বিত্তশালী পরিবারের ছেলে হয়ে যা খুশি করা কিংবা যে কোনওভাবে কিছু পাওয়া যায় এই ধরনের স্বাধীনতা জন্মেছে রজপ্রিয়র মধ্যে, নতুবা তার মধ্যে একটা বিকৃত মনস্কতা রয়েছে। যার জন্যই সে এই ধরনের অপরাধ ঘটিয়েছে বলে দাবি। তবে বিষয়টি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখা উচিৎ বলেও মত বিশেষজ্ঞের।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার হাওড়া শিবপুরের দু’টি পৃথক নির্জন রাস্তায় গলির ভিতর স্কুটি চেপে দুই তরুণীকে শ্লীলতাহানীর ঘটনায় হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা ও শিবপুর থানায় রজপ্রিয়র বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক মামলা হয়। ঘটনার পরই মদের দোকানের মালিক রজপ্রিয়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পরই হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকার একাধিক তরুণী অভিযোগ করেন, কীভাবে ওই যুবক নির্জন রাস্তায় তাঁদের একা পেয়ে শ্লীলতাহানী করেছে। ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে সে এ ধরনের কাজ তরুণীদের সঙ্গে করেছে।
হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক বুধবার এই প্রসঙ্গে জানালেন, ‘‘ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমাদের মনে হয়েছে এটি একটি বিকৃত মনস্ক অপরাধ। অনেক তরুণীর সঙ্গে এই কাজ করেছে ওই যুবক। এর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চ্যাটার্জিহাট ও শিবপুর দু’টি থানায় দু’টি পৃথক মামলা রজু করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যতগুলি থানায় যুবকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর মামলা হবে ততগুলি থানার পুলিশই পৃথক পৃথকভাবে রজপ্রিয়কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করতে পারবে।’’
এই প্রসঙ্গে শহরের মনরোগ বিশেষজ্ঞ অনন্যা ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘‘যুবকের মদের দোকান আছে মানে বুঝতে হবে তাদের পরিবার বিত্তশালী। একদিকে বিত্তশালী হওয়ার জন্য ওই যুবকের মধ্যে যা খুশি যে কোনওভাবে পাওয়ার মানসিকতা থেকে সে এভাবে মেয়েদের শ্লীলতাহানী করেছে। তাছাড়া যুবকের মানসিক কোনও বিকৃতি রয়েছে কি না সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে।’’
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে যুবকের বাবা হাওড়ার বেলেপোলের মোড়ে শৈলেন মান্না সরণীতে মদের দোকানটি করে। তাদের মদের দোকানের পারিবারিক ব্যবসা। বছর খানেক আগে যুবকের বাবা মারা যায়। বর্তমানে মদের দোকানের মালিক রজপ্রিয়। তাদের পরিবারে বর্তমানে যুবকের মা ও তার এক খুড়তুতো দাদা রয়েছে। তবে বছর ২৬-এর ওই যুবকের এখনও পর্যন্ত বিয়ে হয়নি। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মদের দোকানটি আপাতত বন্ধ রেখেছে পুলিশ।
