কখনও ব্যাঙ্ক ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে, আবার কখনও চাকরির টোপ কিংবা আর্থিক বিনিয়োগের মত নানা কায়দায় ঘটছে আর্থিক প্রতারণা! বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতারকরা অনলাইন মাধ্যমকে ব্যবহার করেই প্রতারণার জাল ছড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভুয়ো ফোন কল ও মোবাইল লিঙ্কের খপ্পরে পরে সর্বস্বান্ত বহু মানুষ। দিন দিন বেড়ে চলা এমন সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে এবার বড় সাফল্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের। দায়ের হওয়া অধিকাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি, উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার কোটি টাকা। বুধবার এনিয়ে বালুরঘাটে নিজের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল। সেখানে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সাইবার থানার সাফল্যের তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া অর্থ প্রতীকী চেক প্রদানের মাধ্যমে তুলে দেওয়া হয় প্রকৃত মালিকদের হাতে। যদিও প্রকৃত মালিকদের অ্যাকাউন্টে আগেই প্রদান করা হয়েছে উদ্ধার হওয়া অর্থ!
জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয় যে, গত ২০২৫ সালে বালুরঘাট অবস্থিত জেলা সাইবার ক্রাইম থানায় ৫৫ টি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। যার মধ্যে ৪২ টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে ইতিমধ্যে। এছাড়া ৩২ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাইবার ক্রাইমের ঘটনায়। পাশাপাশি, সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত অভিযোগে জেলা তো বটেই, রাজ্য ও ভিন রাজ্য মিলিয়ে মোট ১০৬ টি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। যার মধ্যে এজেলায় ৭৯ টি অভিযান চলে। বাকি অভিযান রাজ্য এবং ভিন রাজ্যে চালিয়ে সাফল্য মিলেছে। আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় একাধিক অ্যাকাউন্টে থাকা ৩ কোটি টাকার বেশি ফ্রিজ করা হয়। এরমধ্যে এখনও ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা প্রতারিত অর্থাৎ প্রকৃত মালিকদের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে প্রদান করেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ।
গত ২০২৫ সালে বালুরঘাট অবস্থিত জেলা সাইবার ক্রাইম থানায় ৫৫ টি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। যার মধ্যে ৪২ টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে ইতিমধ্যে। এছাড়া ৩২ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাইবার ক্রাইমের ঘটনায়।
সেই সঙ্গে ৪০ টি মোবাইল ফোন, ১ টি ল্যাপটপ, ৮০ টি এটিএম কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রতারণা অর্থ জমা রাখা বিভিন্ন ব্যাঙ্কের বেশকিছু নয়া পাশবুক ফ্রিজ করেছে জেলা সাইবার ক্রাইম থানা তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ম্যান পাওয়ার এবং টেকনিক্যাল যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি করা হয়েছে। একাধিক ব্যাঙ্ক ছাড়াও ভিন রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছি আমরা।''
পুলিশ কর্তার কথায়, ইতিমধ্যে রাজ্যস্তরে একটি সাইবার ক্রাইম উইংস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় এইভাবে সমস্ত দিক থেকে সহযোগিতা মিলছে। মোট ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যে প্রদান করেছি আমরা। বাকি উদ্ধার হওয়া অর্থ ধাপে ধাপে প্রদান করা হবে প্রকৃত মালিকদের অ্যাকাউন্টে।
