ক্ষীরোদদীপ্তি ভট্টাচার্য: শাসকদল তৃণমূলকে ভোট দেননি। এই অভিযোগ এক মহিলাকে প্রকাশ্যে ৩০০ বার ‘ওঠবোস’ করানো হল। এই ঘটনায় অভিযোগের তির তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শুধু ‘ওঠবোস’ই নয়, হেনস্তাও করা হয়েছে জনসমক্ষে। তাঁকে শুক্রবার গোটা গ্রামে জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ। ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের ৪ নম্বর কঙ্কাবতী অঞ্চলের বাগডুবি গ্রামে। নিগৃহীত ওই গৃহবধূর নাম কবিতা দাস। এহেন ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে মেদিনীপুরে। সমালোচনার ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
[জেলা পরিষদে শোচনীয় ফল, সবুজ ঝড়ে বিরোধীরা ঝুয়ে-মুছে সাফ পূর্ব বর্ধমানে]
জানা গিয়েছে, কবিতাদেবীকে শাস্তির নিদান দেওয়ার কারণ তিনি কিছু ‘অপরাধ’ করেছেন। সেই ‘অপরাধে’র অন্যতম, পঞ্চায়েত ভোটের দিন শাসক দল তৃণমূলকে ভোট দেননি ওই গৃহবধূ। উলটে ওই দিন এলাকার বুথে ছাপ্পা ভোট চললে তা আটকানোরও চেষ্টা করেন। সেই ‘অপরাধে’ই নাকি তাঁর শাস্তি হয়েছে। শুক্রবার গোটা গ্রামে তাঁকে জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়। সেই সঙ্গে ভিড়ে ঠাসা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে গুনে গুনে ৩০০ বার ‘ওঠবোস’ করানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর অভাব ছিল না। তবে মুখ খোলা দূরে থাক কবিতা দাসের সপক্ষে কেউই টু শব্দটি করেননি। শোনা যাচ্ছে, শাস্তি দেওয়ার পর অভিযুক্তরা এলাকার রকে বসে বীরত্বের কাহিনী শোনাচ্ছে। সব জেনেশুনেও কোনও মন্তব্য করেননি এলাকার তৃণমূল নেতারা। যদিও বিতর্কিত শাস্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
[পেলেন না জয়ের খবর, হাসপাতালে মৃত্যু জখম তৃণমূল প্রার্থীর]
উল্লেখ্য, এ কোনও নতুন চিত্র নয়। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় থেকেই বার বার হেনস্তার শিকার হয়েছেন মহিলারা। চুলের মুঠি ধরে মহিলা প্রার্থীকে প্রকাশ্যে মারধর থেকে শুরু করে শাড়ি ধরে টানাটানিরও অভিযোগ উঠেছিল। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন মেদিনীপুরের কবিতা দাস। যদিও দলীয় কর্মী সমর্থকদের এই নিদান নিয়ে মুখ খোলেননি তৃণমূল নেতারা।
The post তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ায় মহিলাকে ৩০০ বার ‘ওঠবোসে’র শাস্তির অভিযোগ appeared first on Sangbad Pratidin.
