সরকারি চাকরি ছেড়ে পাথরব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার! রাতারাতি ভাগ্য বদলে গিয়েছিল মিনার মণ্ডলের (Minar Mondal)। তবে সুখ যে কখনই চিরস্থায়ী নয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মিনার। বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার (Cash and Gold Recovery) হতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যদিও স্ত্রীর দাবি, এ টাকা তাঁদের নয়। আদতে তাঁদের নাকি কিছুই নেই। স্রেফ সামান্য পেনশনেই চলে সংসার।
তাহলে কোথা থেকে এল এত এত টাকা? মিনারের স্ত্রীর দাবি, ঘটনার সূত্রপাত বছর খানেক আগে। টুলু মণ্ডল নিজে গিয়ে নাকি তাঁদের বাড়িতে রেখে এসেছিলেন ট্রাঙ্ক। জানিয়েছিলেন তাতে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র রয়েছে। তালাবন্ধ সেই ট্রাঙ্কের চাবি নাকি টুলুর কাছেই ছিল। ফলে মিনার বা পরিবারের অন্যদের কারও আন্দাজও ছিল না যে বাড়িতে এত টাকা ও সোনা রয়েছে। বুধবার পুলিশ তল্লাশি চালানোয় নাকি টাকার বিষয়টা জানতে পারেন সকলে। মিনারের স্ত্রীর কথায়, তাঁর স্বামী কিছুই জানতেন না, অথচ গ্রেপ্তার হতে হল!
উল্লেখ্য, মিনারের বাড়িতে বিপুল টাকা উদ্ধারের পরই উঠে এসেছিল টুলু মণ্ডলের নাম। কারণ, অনুব্রত ঘনিষ্ঠ এই পাথর ব্যবসায়ীর ম্যানেজার হিসেবেই কাজ করতেন মিনার। আর টুলুর সম্পত্তির আন্দাজ কমবেশি সকলেরই রয়েছে। তৃণমূল আমলে বীরভূম জেলায় বেআইনি পাথর ও বালির ব্যবসার বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিলেন টুলু মণ্ডল। নকল ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) বানিয়ে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা রোজগার করতেন তিনি। সেই টাকার ভাগ তৃণমূল আমলে দলের জেলা থেকে রাজ্য নেতৃত্ব পর্যন্ত সব জায়গাতেই পৌঁছে যেত বলেও অভিযোগ। বিধানসভা ভোটের আগে নিউটাউনে একটি গাড়ি থেকে ৫ কোটি টাকা উদ্ধার করে এসটিএফ, সেই ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছিল টুলু মণ্ডলের।
২০২২ সালে একটি খুনের মামলায় টুলু মণ্ডলকে গ্রেপ্তারও করে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। খুন, হুমকি, অস্ত্র প্রদর্শন, ঝামেলায় উসকানি-সহ একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। বছর দুয়েক আগে বলিউডের তারকাদের উপস্থিতিতে সিউড়িতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানও অনেকেরই নজর কেড়েছিল। যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী সহ অনেকেই।
