শঙ্করকুমার রায়, রায়গঞ্জ: ফের ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে খুন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক! পুনেতে কর্মরত উত্তর দিনাজপুরের এক পরিযায়ী শ্রমিককে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ। মৃত ওই ব্যক্তির নাম সমশাদ আলম (৩২)। অভিযোগ, বকেয়া মজুরি চাওয়ায় মাথায় কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে খুন করে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে সমশাদকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। অভিযোগের তির সে রাজ্যের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার বিকালে সুদূর পুনে থেকে উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে সূর্যাপুর (২) পঞ্চায়েতের কুনাল গ্রামের বাড়িতে কফিনবন্দি দেহ পৌঁছতেই শোকার্ত মানুষজনের ভিড় উপচে পড়ে। সন্তানের দেহ জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অসুস্থ মা। ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা মেহের আলি।
বাবার অভিযোগ, ''গত ছয়মাস আগে কেরলে যান সমশাদ। সেখানে বিহারের পূর্ণিয়ার গঙ্গাঘর গ্রামের ঠিকাদার সিকান্দার আলি বেশি টাকার লোভ ছেলেকে পুনেতে নিয়ে যান। সেখানে একটি নির্মিয়মান এক ভবনে মজুরের কাজ করছিলেন। কিন্তু গত তিন মাস ধরে কোন মজুরি না মেলায় ওই ঠিকাদারের কাছে বকেয়া টাকার দাবি জানিয়েছিলেন।'' আর তা জানানোই কাল হয় সমশাদের! মেহের আলি বলেন, ''নতুন বছর অর্থাৎ ১ জানুয়ারিতে পাওনা টাকা মেটানোর কথা ছিল। আর সেইদিন দুপুরে টাকা চাইতেই সমশাদের সঙ্গে বচসা বাধে ওই ঠিকাদারের। আর ওই সময়ই হঠাৎ সিকান্দার আলি ও তাঁর ছেলে পেছন থেকে শামসদের মাথায় বাটাম দিয়ে সজোরে আঘাত করে। আর আঘাতে মুখ থুবড়ে নিচে লুটিয়ে পড়ে গুরুতর জখম হন। এরপরেই দড়িতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।'' সত্য ঘটনা ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার কথা বলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ শামসদের।
এদিন ওই পরিযায়ী শ্রমিকের কফিনবন্দি দেহ নিজের বাড়িতে পৌঁছায়। নির্মম হত্যার সুবিচারের দাবিতে শোকার্ত পরিবারের পাশে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় পাড়া প্রতিবেশী বাসিন্দারা। এই ঘটনায় পুনে পুলিশের কাছে এই নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ইসলামপুর পুলিশ সুপার জবি থমাস বলেন," অভিযোগ পেলে পুনের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
