বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: 'চিকেনস নেক' অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডর'কে ঘিরে আরও আধুনিক সুরক্ষাবলয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর। একেবারে নতুন ডিজাইনের বেড়ায় মুড়ল ভারত এবং বাংলাদেশ সীমান্ত (India Bangladesh Border) এলাকা। জানা গিয়েছে, সীমান্তের ৭৫ শতাংশ এলাকায় নতুন এই বেড়া দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আধুনিক ওই বেড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। ফলত এখন সীমান্তের পাতা পড়লেও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী অর্থাৎ বিএসএফে নজরে তা ধরা পড়ে যাবে। সেই সঙ্গে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস টু এয়ার মিসাইলও সীমান্তে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে খবর।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জেরে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষত শিলিগুড়ি করিডর এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আধুনিকীকরণের কাজ শেষের পথে। প্রায় ৭৫ শতাংশ সীমান্ত এলাকা জুড়ে নতুন ডিজাইনের বেড়া বসানো হয়েছে। প্রায় ১২ ফুট উঁচু এই আধুনিক বেড়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। যাতে সীমান্তের প্রতিটি নড়াচড়া রিয়েল-টাইমে নজরে রাখা যায়। ওই বেড়া অ্যান্টি কাটার এবং অ্যান্টি ক্লাইম্ব। পুরো ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফ।
সীমান্তে অত্যাধুনিক কাটা তারের বেড়া ঘুরে দেখছেন বিজেপি সাংসদ।
দেশের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। তারমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ২১৭ কিলোমিটার। এখানে নতুন ডিজাইনের বেড়া বসেছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অস্থিরতার প্রভাব ঠেকাতে এমন আধুনিকীকরণ। এছাড়াও নিরাপত্তাজনিত হুঁশিয়ারি মাথায় রেখে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩৬০ ডিগ্রি নিরাপত্তার জন্য বাড়তি ৮ হাজার ১৬০ কোটি টাকা খরচ করে দুটি বাড়তি আকাশ অ্যাডভান্সড মিসাইল সিস্টেম এবং ভৈরব ব্যাটেলিয়নকে মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকী আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস টু এয়ার মিসাইলও 'চিকেনস নেকে'র সুরক্ষায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
