shono
Advertisement
Iran War

ইরানের 'অগ্নিবাণে' পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য! ইরাকে তেলবাহী জাহাজে হামলা, যুদ্ধ থামাতে ৩ শর্ত তেহরানের

কুয়েত, কাতার, আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশগুলিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলেও তা রুখে দিয়েছে তারা। সংঘাতের মধ্যেই শান্তি ফেরাতে তিন শর্ত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
Published By: Kishore GhoshPosted: 09:06 AM Mar 12, 2026Updated: 10:43 AM Mar 12, 2026

আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার হামলার পরেও পিছু হটতে রাজি নয় ইরান। 'বিশ্বের জ্বালানির লাইফলাইন' হরমজু প্রণালী, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ এবং ইজরায়েলে প্রত্যাঘাত করছে তারা। ইরাকের বাণিজ্যবন্দর আল-ফ-তে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এছাড়াও কুয়েত, কাতার, আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশগুলিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলেও তা রুখে দিয়েছে তারা। সংঘাতের মধ্যেই শান্তি ফেরাতে তিন শর্ত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সেগুলি হল ১) সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে তেহরানের অধিকারের স্বীকৃতি, ২) যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ৩) ভবিষ্যতে আগ্রাসন হবে না, এই আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি।

Advertisement

একটি সূত্রে জানাচ্ছে, ইরাকের বন্দরে আমেরিকান সংস্থার দু'টি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও হরমুজে ভাসমান একাধিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে খবর। সৌদি আরবের দাবি, ইরানের হামলায় তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, একাধিক হামলায় হরমজুকে অবরুদ্ধ করার কৌশল নিয়েছে ইরান। এর ফলে যুদ্ধাবসনে চাপ বাড়বে আমেরিকা ও ইজরায়েলের উপরে।

একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের হামলায় দেড়শো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। কুয়েত, কাতার, আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরব সরকারি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে দেশগুলিতে। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভয়ংকর হামলা রুখে দেওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দেওয়া শান্তির তিন শর্ত না মানলে এবং ইজরায়েল-আমেরিকা হামলা চালিয়ে গেলে তারাও প্রত্যাঘাত করবে।

প্রসঙ্গত, গতকাল হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় ২ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আরও এক ভারতীয় নিখোঁজ। বুধবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আসছিল ‘ময়ুরী নারী’ নামের পণ্যবাহী জাহাজ। যেটিতে ছিল থাইল্যান্ডের পতাকা। সূত্রের খবর, ওই জাহাজটি গুজরাট উপকূলের দিকে বহু অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে আসছিল। সেসময় আচমকা সেটির উপর হামলা হয়। তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ইরানের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে হরমুজ থেকে কোনও তেলবাহী জাহাজকে যেতে দেওয়া হবে না। ইরানের বাহিনী আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এক লিটার তেলও পশ্চিম এশিয়ার বাইরে যাবে না। পালটা আমেরিকা জানিয়েছে, হরমুজ বন্ধ করলে ভয়ংকর হামলার মুখে পড়তে হবে ইরানকে। এই হুমকি হুঁশিয়ারির মাঝেই ইরান জানিয়েছিল হরমুজে মোতায়েন করা হয়েছে মাইন বোঝাই নৌযান। সেই মাইন নৌযানের জন্যই কি আক্রান্ত হল ময়ুরী নারী নামের ওই জাহাজটি? সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে ভারতীয় পণ্য ছিল। ভারতীয় নাবিকও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন নিখোঁজ। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement