নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোটপর্বের সংখ্যা আটের বদলে ছ’দফায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব উঠে এল নির্বাচন কমিশনের অন্দরে। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে বাংলা, তামিলনাড়ু, কেরল-সহ মোট পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকরা। ওই বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল রাজ্যে ভোটগ্রহণের দফা কমানোর প্রস্তাব দেন বলে সূত্রের দাবি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় ভোট হয়েছিল। তবে এবারে দফা কমিয়ে ছ’টিতে নামিয়ে আনা হলে আইনশৃঙ্খলা আরও সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও অতি-সংবেদনশীল বুথগুলিতে নজরদারি বাড়ানো এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও দক্ষভাবে মোতায়েন করার ক্ষেত্রে দফা কমানো সুবিধাজনক হতে পারে বলেই মনে করছে কমিশনের একাংশ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ১০৯৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তার থেকেও বেশি সংখ্যক বাহিনী চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদিনের বৈঠকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাই ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। এছাড়াও বৈঠকে রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা রাজ্যের ভোট প্রস্তুতি নিয়ে মনোজ আগরওয়ালের কাছ থেকে একটি সার্বিক রিপোর্ট নেন।
যদিও ভোটপর্ব কমানোর প্রস্তাব উঠেছে, তবুও কমিশন কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। ২০২১ ও ২০২৪ সালের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জেলার সংবেদনশীলতার মাত্রা খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি মনোজ আগরওয়ালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গেও পৃথক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের সংবেদনশীল ও অতি-সংবেদনশীল বুথগুলির তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই ভোটপর্বের সংখ্যা ও নিরাপত্তা বাহিনীর চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।
