দেব গোস্বামী, বোলপুর: বাংলায় এসআইআর (SIR in West Bengal) শুনানি পর্ব চলছে এখন। এনুমারেশন ফর্মে ত্রুটি পেলেই শুনানিকেন্দ্রে ডাক পড়ছে নাগরিকদের। সেই তালিকায় রয়েছেন খোদ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ভারতরত্ন অমর্ত্য সেন (Amartya Sen)। বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবারই এই ইস্যুতে সরব হন তৃণমূল সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই নোটিস নিয়ে শান্তিনিকেতনে নোবেলজয়ীর বাড়ি 'প্রতীচী'তে হাজির হলেন কমিশনের তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। নোটিসে বলা হয়েছে, 'অর্মত্য সেনের সঙ্গে তাঁর পিতা/মাতার বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম।' যা 'সাধারণভাবে প্রত্যাশিত' নয় বলে উল্লেখ কমিশনের। যদিও অমর্ত্য সেনকে কোনও শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে না। এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি দিলেই ভুল সংশোধন হয়ে যাবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও নোবেলজয়ীর এই নোটিস নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে তরজা। 'হয়রানি' করা হচ্ছে বলে ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন নোবেলজয়ীর ভাই শান্তভানু সেন।
অমর্ত্য সেন বর্তমানে রয়েছেন আমেরিকার বোস্টন শহরে। ভারতের নাগরিক হওয়ায় তিনি নির্দিষ্ট সময়েই এনুমারেশন ফর্ম জমা করেছেন। এরপরেও কেন নোবেলজয়ীকে নোটিস, তা নিয়ে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রামপুরহাটের জনসভা থেকে অভিষেক বললেন, "অমর্ত্য সেনকেও শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে! ভাবুন, দেশের জন্য নোবেল পুরস্কার জিতে আসা ব্যক্তিত্বকেও এরা হেনস্তা করতে ছাড়েনি। টলিউডের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, অভিনেতা-সাংসদ দেবকে নোটিস, দেশের মুখ উজ্জ্বল করা ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকে নোটিস দিয়েছে। এগুলো কি ষড়যন্ত্র নয়?”
অমর্ত্য সেনকে পাঠানো কমিশনের নোটিস।
এরপরেই এদিন নোটিস হাতে অমর্ত্য সেনের বাড়ি যান কমিশনের তিন আধিকারিক। ভাই শান্তভানু সেন বলেন, ''ওরা বলল কাগজপত্র কিছু মিলছে না। তাই নোটিস নিতে হবে।'' তাঁর কথায়, ''হয়রানি করা হচ্ছে। সবাই চেনে। এরপরেও বলা হচ্ছে তিনি (পড়ুন-অমর্ত্য সেন) নাকি নাগরিক নয়।'' প্রতীচীর দায়িত্বে থাকা গীতিকণ্ঠ মজুমদার বলেন, ''অমর্ত্য সেনের যাবতীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা কাগজপত্র দিয়ে সহযোগিতা করব। কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।'' তাঁর কথায়, ''এটা দুর্ভাগ্যের যে ওনার মতো মানুষকেও অসম্মানিত হতে হচ্ছে বারংবার।''
নোটিস হাতে নোবেলজয়ীর ভাই।
এদিকে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অমর্ত্য সেনকে কোনও শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিলেই ভুল সংশোধন হয়ে যাবে। তবে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৬ জানুয়ারি। প্রতীচীতে যাওয়া এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তাঁর সমস্যা সামান্য। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং পাসপোর্টের ফটোকপি পেলেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
