জলের দরে ফলের রস! ফেসবুকে আড়াই লক্ষ টাকায় বোলেরো গাড়ির বিজ্ঞাপন দেখে মুর্শিদাবাদ থেকে দত্তপুকুরের নীলগঞ্জে হাজির হয়েছিলেন যুবক। কিন্তু গাড়ি তো পেলেনই না উলটে খোয়ালেন টাকা। যদিও ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা।
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা নেতাজুল শেখ। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি বোলেরো গাড়ির বিজ্ঞাপন দেখেন তিনি। দাম দেওয়া হয়েছিল আড়াই লক্ষ টাকা। এত সস্তায় বোলেরো দেখে স্বাভাবিকভাবেই পোস্টে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করেন যুবক। তখনই তাঁকে দত্তপুকুর থানার নীলগঞ্জ বাজারে আসতে বলা হয়। তিনি নীলগঞ্জ বাজারে পৌঁছলে প্রতারকরা লেনদেনের জন্য স্থানীয় একটি বাড়িতে নিয়ে যান তাঁকে। সেখানেই বোলেরো গাড়ি ডেলিভারির আশ্বাস দেওয়ার দিয়ে আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে নেয় প্রতারকরা। এরপর তাঁকে গাড়ির জন্য নীলগঞ্জে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কারও দেখা পাননি তিনি।
একপর্যায়ে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে দত্তপুকুর থানার দ্বারস্থ হন নেতাজুল। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে প্ৰথম চার অভিযুক্ত সাহদত মণ্ডল, নেমাতুল্লা খান, সুজিত বিশ্বাস ও বিদ্যুৎ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের প্রত্যেকেরই বাড়ি দত্তপুকুর থানা এলাকায়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দু'জন অশোকনগরের বাসিন্দা এসকে সালমান ও দত্তপুকুরের বাসিন্দা মাসাদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ২ লক্ষ ১৫হাজার টাকা। এনিয়ে বারাসতের এসডিপিও বিদ্যাগর অজিঙ্কা অনন্ত বলেন, "বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অন্যান্য জেলায় অনলাইন যানবাহন বিক্রির নামে প্রতারণার ঘটনায় ধৃতরা জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাগরিকদের অনলাইন বিজ্ঞাপনে সাড়া দেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ করছি।"
