গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে তিনটি ম্যাচই আগে ব্যাট করেছে ভারত। আর সবকটায় জিতেছেন সূর্যকুমার যাদবরা। সুপার এইটের পরীক্ষা কঠিন, অভিনবও বটে। কারণ টুর্নামেন্টে এই প্রথমবার রান তাড়া করতে চলেছে টিম ইন্ডিয়া। তাও সেটা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। যেখানে প্রচুর রান ওঠে। প্রথমে বল করার আমন্ত্রণে শুরুটা ভালো হলেও ভারতকে চাপে ফেলে দিলেন ডেভিড মিলার। 'কিলার মিলারে'র দাপটে অভিষেক শর্মাদের সামনে ১৮৮ রানের লক্ষ্য রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা।
আহমেদাবাদে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করাম। সাধারণত এই পিচে প্রচুর রান হয়, শিশিরও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তাই এই সিদ্ধান্ত কিছুটা চমকপ্রদ। মার্করামের সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়ে ফেরানোর কাজটা শুরু করে দিয়েছিলেন জশপ্রীত বুমরাহ (১৫/৩), অর্শদীপ সিংরা (২৮/২)। দ্বিতীয় ওভারেই কুইন্টন ডি'ককের উইকেট ছিটকে দিলেন বুমরাহ। তারপরের ওভারে অর্শদীপ ফেরালেন মার্করামকে। বুমরাহর ম্যাজিক ফিরল চতুর্থ ওভারেও। বলের গতির হেরফের করে রায়ান রিকেলটনকে ফেরালেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০ রান। ম্যাচের রাশ পুরোপুরি টিম ইন্ডিয়ার হাতে।
কিন্তু টপ অর্ডারের উইকেট হারিয়েও চাপে পড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা। বরং পাওয়ার প্লে শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরলেন। তারপরই আক্রমণ করলেন শিবম দুবে, বরুণ চক্রবর্তীকে। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও ডেভিড মিলার মিলে ভারতীয় বোলিংকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়লেন। বিশেষ করে শিবম দুবে যেভাবে বলের লাইন-লেংথ হারালেন, তার সুযোগ নিতে ছাড়েননি মিলার। অন্যদিকে আহমেদাবাদের ব্যাটিং পিচে একেবারে সাদামাটা বোলিং করে গেলেন বরুণ। শেষমেশ মিলারকে ফেরালেও তিনি ৪ ওভারে দিলেন ৪৭ রান। ততক্ষণে ৩৫ বলে ৬৩ রান করে প্রোটিয়াদের ইনিংসকে শক্ত জমির উপর দাঁড় করিয়ে দিয়ে যান। অন্যদিকে ব্রেভিস করেন ৪৫।
তবে বুমরাহ ফিরলেন, ভারতকে ম্যাচে ফেরালেন। যেন বলে বলে ইয়র্কার ফেললেন। ত্রিস্তান স্টাবসরা ব্যাটের মুখ খোলার জায়গাই পেলেন না। করবিন বশকে ইয়র্কারে ক্যাচ নিয়ে ফেরালেন। আর তার সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেটের নজিরও এখন বুমরাহর নামে। সঙ্গ দিলেন অর্শদীপও। স্যুইংয়ে বিপর্যস্ত করে মার্কো জানসেনকে ফেরালেন। কিন্তু শেষ ওভারে ২০ রান দিয়ে ডোবালেন হার্দিক। ২৪ বলে ৪৪ রান করলেন স্টাবস। সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হল ১৮৭ রানে। আহমেদাবাদের পিচে এই রানটা তোলা কঠিন কাজ নয়। টিম ইন্ডিয়া সেটা করতে পারে কি না, সেটাই দেখার।
