রাত পোহালে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগেই কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হয়েছে উত্তরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। শেখ হাসিনা পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বৃহস্পতিবার প্রথম সাধারণ নির্বাচন হতে চলেছে। হাসিনা বিদায়ের পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে অশান্তি ও অস্থিরতার ছবি সামনে এসেছে। ভারত বিদ্বেষ ক্রমশ বেড়েছে। এমনকি স্পর্শকাতর 'চিকেনস নেক'-এ হামলার হুমকিও মিলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কড়া নজরদারির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় চলছে নাকা তল্লাশি। এর মধ্যেই মঙ্গলবার কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলে। তা ঠেকাতে রবার বুলেট ছোড়ে বিএসএফ। জখম হয় এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণ ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। যদিও বিএসএফের কর্তারা ওই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
বলে রাখা প্রয়োজন, ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৭৫ শতাংশ সীমান্তে নতুন ডিজাইনের বেড়া বসেছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর এবং মালদহ মিলিয়ে ছয় জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। এরমধ্যে ১৯৫ কিলোমিটার সীমান্তে নদী, জমির সমস্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়া নেই। আবার নদীর পারে কাঁটাতার ফেলা থাকলেও তাতে নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত হয়নি। ওই এলাকায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) টহল বাড়ানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, নদীপথেও ছোট ছোট নৌকায় টহলদারি চালাচ্ছে বিএসএফ।
জানা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি সীমান্ত রয়েছে কোচবিহার জেলায়। ৫৫০ কিলোমিটার। এরপর দক্ষিণ দিনাজপুর, ২৫০ কিলোমিটার। উত্তর দিনাজপুরে রয়েছে ২২৭ সীমান্ত। এই বিরাট সীমান্তের দুই দিনাজপুর এবং মালদহের অধীনে থাকা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার এবং কোচবিহারের ৫৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এমনিতেই এসআইআর চলায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক অথবা কোনও দুষ্কৃতী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অঘটন ঘটাতে না পারে সেজন্য নাকা তল্লাশিও চলছিলো। তার উপর বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সীমান্তে বাড়তি বিএসএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর সীমান্তে বিএসএফ-এর টহল সোমবার থেকে বেড়েছে। চ্যাংরাবান্ধা, ফুলবাড়ি, হিলি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধা বিডিও অফিস থেকে বিএসএফ ক্যাম্প পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই। সেখানেও নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।
