মানভূমের প্রাণের উৎসব টুসু (Tusu Festival)। আর সেই টুসু উৎসবেই প্রাথমিক স্কুলের দরজা খোলা। অথচ এ যাবৎকালে টুসু পরবের দিন কচিকাঁচাদের স্কুল সব বন্ধ থাকতো। ভীষণই অদ্ভুতভাবে পৌষ সংক্রান্তিতে ছুটি দেওয়া হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এমনকি কলকাতা ছুঁয়ে থাকা হাওড়াতেও। সেখানকার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের হস্তক্ষেপে ওই ছুটি মিলেছে। স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের ভূমিকা নিয়ে।
টুসু উৎসব। ছবি: সুমিত বিশ্বাস।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ যে নিজস্ব ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে তাতে ফি বছর স্থানীয় পার্বনগুলি গুরুত্ব পায়। এই বছরই প্রথম নজিরবিহীনভাবে রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ প্রকাশিত ক্যালেন্ডারকেই সিলমোহর দিয়েছে পুরুলিয়া (Purulia) জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ। সেখানে টুসুর কোনও গুরুত্ব নেই। গুরুত্ব নেই মকর পরবের পরের দিন পয়লা মাঘ আখান যাত্রার। অথচ জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের গঠনের পিছনে স্থানীয় বিষয়গুলিকেই অগ্রাধিকারে দেখতে হবে বলে বিধি ছিল। আগে এই শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হতো। এখন অবশ্য তা মনোনীত।
কেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ কেন টুসু পরবে ছুটি দিল না? জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন বলেন, "আমরা এই বিষয়টি যথাস্থানে জানিয়েছি। টুসু যে সাবেক মানভূমের মানুষের আবেগ সেটাও বোঝানো হয়েছে। তারপরও কেন যে ছুটি মিলল না বুঝতে পারছি না।" এদিকে উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন মঙ্গলবার প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে টুসু, আখান যাত্রা, সরস্বতী পুজোর পরের দিন বাসি ভাত, মনসা পুজো ও তারপরের দিন পান্নায় আগেকার মত স্থানীয় ছুটি মঞ্জুর করতে হবে।
