shono
Advertisement
SIR in West Bengal

বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাকে SIR শুনানিতে ডাক! 'আতঙ্কে' চরম সিদ্ধান্ত পুরুলিয়ার আদিবাসী যুবকের

পুরুলিয়ায় আবার এক আদিবাসী জনজাতি যুবকের প্রাণ কাড়ল এসআইআর! তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে আদিবাসী যুবককে ডাকা হয়েছিল শুনানিতে। আর সেই আতঙ্কেই পুরুলিয়ার মানবাজার থানার পাথরকাটা গ্রামে বাড়ির উঠোনের পাশে আমগাছে গলায় মাফলারের ফাঁস লাগিয়ে 'আত্মঘাতী' হন ওই আদিবাসী যুবক দেবরাজ ওরাং।
Published By: Suhrid DasPosted: 11:04 PM Jan 19, 2026Updated: 02:20 PM Jan 20, 2026

পুরুলিয়ায় আবার এক আদিবাসী জনজাতি যুবকের প্রাণ কাড়ল এসআইআর (SIR in West Bengal)! তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে আদিবাসী যুবককে ডাকা হয়েছিল শুনানিতে। আর সেই আতঙ্কেই পুরুলিয়ার মানবাজার থানার পাথরকাটা গ্রামে বাড়ির উঠোনের পাশে আমগাছে গলায় মাফলারের ফাঁস লাগিয়ে 'আত্মঘাতী' হন ওই আদিবাসী যুবক দেবরাজ ওরাং। তার বাড়ি পুরুলিয়ার মানবাজার থানার পাথরকাটা গ্রামে। তিনি পেশায় গাড়ির চালক।

Advertisement

রবিবার রাত আড়াইটা নাগাদ তার মৃতদেহ উদ্ধার হলেও প্রথমে এই বিষয়টি সেভাবে জানাজানি হয়নি। সোমবার ময়নাতদন্ত হয় পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। পরিবারের তরফে জানানো হয়, মঙ্গলবার তাঁর শুনানি ছিল মানবাজার এক ব্লক কার্যালয়ে। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি ওই নোটিশ হাতে পান। ওই নোটিশের খবর শুনেই ভেঙে পড়েন বছর ৩২ বয়সের দেবরাজ। নির্বাচন কমিশনের কাছে যে তথ্য জমা পড়েছিল তাতে তার বাবার থেকে তার বয়সের ফারাক অনেকটাই বেশি। সেই কারণেই মঙ্গলবার সকাল ১০ টা নাগাদ শুনানিতে ডাকা হয় বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে।

ওই নোটিশে লেখা ছিল, "পূর্ববর্তী এসআইআর (SIR in West Bengal)-র সময় প্রস্তুত ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনও মিল না থাকা বা সম্ভবত ভুল মিল থাকার পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে আপনি নিম্ন সাক্ষরকারীর সামনে উপস্থিত হন।" তারপরেই লেখা ছিল শুনানির তারিখ ও সময়। মানবাজার এক ব্লক কার্যালয়ে এনআরএলএম হলে শুনানি রয়েছে বলে নোটিশের শেষ অংশে জানানো হয়।

ওই চালকের বাড়ি মানবাজার থানার পাথরকাটা গ্রামে হলেও তিনি তার শ্বশুর বাড়ি বাঘমুন্ডি থানার বীরগ্রামে থাকতেন। সেখানেই গাড়ি চালাতেন। রবিবার ওই নোটিশ আসার পরেই তিনি এদিন শ্বশুরবাড়ি থেকে বাসে করে নিজের বাড়িতে আসেন। তার দাদা রমেশ ওরাং বলেন, " ওই নোটিশ আসার পর ভাই ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। মনে করছিল পরিবারের থেকে তাকে আলাদা করে দেবে। কিন্তু আমরা সবাই ভাইকে বুঝিয়ে ছিলাম। মধ্যরাতে যে এমন ঘটনা ঘটে যাবে আমরা ভাবতেও পারিনি।"

মধ্য রাতে ঝুলন্ত দেহ নামানোর পর সঙ্গে সঙ্গে মানবাজার গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিন ময়নাতদন্তের পর সন্ধ্যায় মানবাজারে ইন্দকুড়ি মোড়ে অ্যাম্বুলেন্সে ওই মৃতদেহ পৌঁছয়। সেখানেই ওই মরদেহে মালা দেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক তথা কো-অর্ডিনেটর সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, আদিবাসী নেতা গুরুপদ টুডু প্রমুখ। মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু বলেন, "এসআইআর-র কারণে আমাদের জেলায় দু'জনের মৃত্যু হল। এজন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। কমিশন বিজেপির কথা মতো কাজ করছে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement