বাবা-মা দু'জনেই বিজেপির স্থানীয় নেতা-নেত্রী। এসআইআরের (SIR in Bengal) নামে বাংলার বহু যোগ্য ভোটারের নাম কেটে গিয়েছে, দেশের মানুষ হেনস্থার শিকার! এমনই মনে করেন মঙ্গলকোটের যুবক। সেজন্য এই বিষয়ে প্রতিবাদ করতে দিল্লির সংসদভবনে পৌঁছে যেতে চেয়েছিলেন! লক্ষ্য ছিল দেশের আইনসভায় সাধারণ নাগরিকদের হয়ে সওয়াল করা। কিন্তু পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হতে হল বাঙালি যুবককে। ঘটনা জানাজানি হতেই বর্ধমানের মঙ্গলকোট এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আটক হওয়া ওই যুবকের নাম সৌম্যদীপ গোস্বামী। ১৯২৯ সালের ৮ এপ্রিল বিপ্লবী ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত দিল্লির সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে (বর্তমানে পার্লামেন্ট হাউস) ব্রিটিশ সরকারের জনবিরোধী "পাবলিক সেফটি বিল" ও "ট্রেড ডিসপুট বিল"-এর প্রতিবাদে দুটি বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন। বিপ্লবী ভগৎ সিং সৌম্যদীপের আদর্শ। এসআইআরের নামে দেশের সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি তথা 'ভোটারাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তের' বিরুদ্ধে ৯৭ বছর আগের সেই দিনটি স্মরণ করিয়ে গত ৮ এপ্রিল বুধবার দিল্লির পার্লামেন্ট ভবনে পৌঁছে গিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের যুবক সৌম্যদীপ গোস্বামী। লক্ষ্য ছিল দেশের আইনসভায় সাধারণ নাগরিকদের হয়ে সওয়াল করা। কিন্তু পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হতে হল বাঙালি যুবককে। আর ২৯ বছরের যে তরতাজা শিক্ষিত যুবককে এসআইআরের বিরোধিতা করতে গিয়ে আটক হতে হয়েছে।
আটক যুবককে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
সৌম্যদীপের বাবা অলোকতরঙ্গ গোস্বামী বিজেপির বর্ধমান জোনের প্রমূখের পদে রয়েছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। সৌম্যদীপের মা বুলবুল গোস্বামী বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদকের পদে রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে আলোকতরঙ্গ গোস্বামী ও বুলবুলদেবীর একমাত্র সন্তান সৌম্যদীপ। তাঁদের বাড়ি মঙ্গলকোটের বেলগ্রামে। বর্তমানে অলোকতঙ্গবাবু সস্ত্রীক কৈচরে ভাড়াবাড়িতে থাকেন। সৌম্যদীপ কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন।
গত মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন সৌম্যদীপ। তাতে তিনি লেখেন, "আগামী কাল ৮ এপ্রিল। ৯৭ বছর আগে আইনসভায় বোমা ফেলেছিলেন ভগৎ সিং। বোমা ফেলেছিলেন পাবলিক সেফটি বিলের বিরোধিতায়। আমার বোমা নেই, কিন্তু ভগৎ সিং রয়েছেন। আগামী কাল, ৮ এপ্রিল ২০২৬, স্বাধীন ভারতের নাগরিকত্ব সংকটের প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার ইতিহাসটুকুই তো অস্ত্র। চললাম, পার্লামেন্টে ভগৎ সিং-এর লেখা পড়তে। চললাম। তারপর কী জানি না। কিছু তো নিশ্চয়ই।" ওদিন তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্টও করেছিলেন।
সৌম্যদীপের বাবা অলোকতরঙ্গ গোস্বামী বলেন, "দিল্লি যাওয়ার আগেও ছেলে আমাকে ফোন করেছিল। যাওয়ার আগে পার্লামেন্টেও চিঠিও দিয়েছিল। কিন্তু উত্তর আসেনি। এরপর গত বুধবার পার্লামেন্ট থানার পুলিশ আমাকে জানায় পার্লামেন্টে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করার জন্য ছেলেকে আটক করা হয়েছে।"
সৌম্যদীপের বাবা অলোকতরঙ্গ গোস্বামী বলেন, "দিল্লি যাওয়ার আগেও ছেলে আমাকে ফোন করেছিল। যাওয়ার আগে পার্লামেন্টেও চিঠিও দিয়েছিল। কিন্তু উত্তর আসেনি। এরপর গত বুধবার পার্লামেন্ট থানার পুলিশ আমাকে জানায় পার্লামেন্টে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করার জন্য ছেলেকে আটক করা হয়েছে। তবে ছেলে যা করেছে সুস্থ্ মস্তিষ্কে, ঠান্ডা মাথায়।" জানা গিয়েছে আলোকতরঙ্গবাবুর এক আত্মীয়া থাকেন দিল্লিতে। তিনি খবর পেয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে সৌম্যদীপকে প্রেয়ার বণ্ডে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সৌম্যদীপ রাজি হননি। অলোকতরঙ্গবাবু আরও জানিয়েছেন, এরপর দিল্লি পুলিশ থেকে বলা হয় সৌম্যদীপকে সঙ্গে করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আজ, শুক্রবার সৌম্যদীপের বাবা-মা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। ছেলের এই কাণ্ডকে কি সমর্থন করেন? অলোকতরঙ্গ গোস্বামী বলেন,"ছেলের ২৯ বছর বয়স। ওর স্বাধীন চিন্তার অধিকার আছে। ছেলে দেশের সাধারণ নাগরিকদের হয়েই কথা বলছে। এর মধ্যে কোনও অন্যায় দেখছি না। ছেলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনকে আমি সমর্থন করছি।"
