অমিত কুমার দাস: চুয়াড় বিদ্রোহের আঁতুড়ঘর ছিল কর্ণগড়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রানি শিরোমণি। যেখানে তাঁর গড় ছিল, সেই স্থান রানি শিরোমণি গড় বলে পরিচিত। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে জীর্ণ মন্দির ধ্বংসাবশেষ। এবার সংস্কার ও সংরক্ষণ হবে সেই সমস্ত জীর্ণ স্মৃতিসৌধের। সেই লক্ষ্যে সোমবার দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে সেই কাজ।
জীর্ণ ধ্বংসাবশেষ সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছিল ভালোবাসি কর্ণগড়, হেরিটেজ জার্নি ও রানি শিরোমণি ঐক্য মঞ্চ। সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে দরবার করা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী, জেলাশাসক-সহ বিভিন্ন দফতরে। উদ্যোগী হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্ণগড়কে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়। গড়ের মধ্যে অবস্থিত হাওয়া মহল, মন্দির সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় পিডব্লিইডি দফতরকে। সেই লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে দরপত্রের আহ্বান করা হয়েছিল। সোমবার সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী তিনশো দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কাজের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ কোটি ৪২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮৯০ টাকা।
রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশিত দরপত্র।
তিনটি সংগঠনের আহ্বায়ক নিসর্গ নির্যাস মাহাতো এই প্রসঙ্গে বলেন, "রাজ্য সরকারের নির্দেশ ও জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপে আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি।" স্থানীয় নেতা সন্দীপ সিংহ বলেন, "শালবনি তথা অখণ্ড মেদিনীপুরের গর্ব রানি শিরোমনি ও কর্ণগড়। আমাদের সম্মিলিত দাবিকে মান্যতা দিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিবাচক এই পদক্ষেপে আমরা খুশি।"
