Advertisement
দুল বেচে কলকাতা পাঠান মা, নাচের দিদিমণি থেকে ছোটপর্দার নায়িকা, বাস্তবেও 'বাঘিনী' সম্পিতা
কলকাতার বুকে এখন ৬০০ ছাত্রী সম্পিতার।
সম্পিতা প্রামাণিক। সোশাল মিডিয়ায় বুঁদ হয়ে থাকা জেন জির এমন কেউ নেই যারা তাঁকে চেনেন না। আসলে সম্পিতা নিজ গুণে সকলের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। বর্ধমান শহর থেকে কলকাতায় এসে নিজের যোগ্যতায় পরিচিতি তৈরি করেছেন। এবার তিনি বাঘিনী ধারাবাহিকের মূল চরিত্রে। কেমন ছিল বর্ধমান থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত জার্নিটা? কতটা লড়াই করেছেন সম্পিতা? চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেই গল্পটাই।
বর্ধমানে জন্ম। বাবা, মা ও বোনকে নিয়ে সংসার। ছোট থেকেই অভাবকে সঙ্গে নিয়েই বেড়ে ওঠা। তবে সম্পিতার বরাবর স্বপ্ন ছিল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। তবে বর্ধমান থেকে কলকাতা পৌঁছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে কলকাতা এসেছিলেন সম্পিতা। সেই সময় কানের দুল বিক্রি করে পয়সা জোগাড় করেছিলেন তাঁর মা।
ছোটো থেকে নাচ তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। পাশাপাশি অভিনয়ের প্রতি আকর্ষণও ছিল তাঁর। একটি সাক্ষাৎকারে সম্পিতা জানান, ২০২১ সালে ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে ঢুকতেই দেননি। মনে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও কী করবেন বুঝে উঠতে পারেননি সম্পিতা। এরপর নাচ নিয়েই এগোন তিনি। কলকাতার বুকে এই মুহূর্ত তাঁর ৬০০ ছাত্রী।
পাশাপাশি তিন ইনফ্লুয়েন্সরও বটে। ভিডিওর মাধ্যমে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। কখনও আবার ডেইলি লাইফ ভ্লগ করেন তিনি। তবে তাঁর পেজের বেশিরভাগটা জুড়েই নাচের ভিডিও। তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। নাচের সূত্র ধরেই এবার জনপ্রিয় চ্যানেলের ধারাবাহিকের মূখ্য ভূমিকায় সম্পিতা প্রামাণিক। নিজেই সোশাল মিডিয়ায় সুখবর দিয়েছেন তিনি। ভাগ করে নিয়েছেন শুটিংয়ের বেশ কিছু মুহূর্ত।
তবে এই ভূমিকায় তাঁকে সকলে কীভাবে নেবেন তা নিয়ে খানিকটা শঙ্কায় যে ছিলেন, সেকথা নিজেই স্বীকার করেছেন সম্পিতা। তিনি বলেন, "অভিনেত্রী হওয়াটা খুব সহজ ব্যাপার নয়। মানুষ কী ভাবে নেবে সেই চিন্তা ঘুরেছে মনের মধ্যে। আগেও অভিনয়ে সুযোগের বহু চেষ্টা করেছি। কেউ পথ দেখায়নি। তবে যা করেছি, যতটুকু করেছি সবটাই একা।"
এরপর কী করবেন সম্পিতা? আসলে কলকাতার বুকে ভাড়া থাকতে গিয়ে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। তাই সম্পিতার স্বপ্ন, কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা উঁচু উঁচু আবাসনে একটা বিশাল ফ্ল্যাট হবে তাঁর। কোনও কিছুর জন্য চিন্তা করতে হবে না। বাবা-মায়ের সব স্বপ্ন যেন পূরণ করতে পারেন এটুকুই আশা সম্পিতার।
চলতি বছর ভারতীয় ফুটবলের মুখ উজ্জ্বল করেছে মিনার্ভা অ্যাকাডেমি। অনূর্ধ্ব-১২ দল গোথিয়া কাপের ফাইনালে ব্রাজিলের আরএস স্পোর্টস ইয়েলোকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি কাপও জিতেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ইউরোপের দু’টি বড় টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে ভারতীয় ফুটবলের মুখোজ্জ্বল করেছে মিনার্ভার খুদে ফুটবলাররা। এই সাফল্যের নেপথ্যে অন্যতম কারিগর লিটল জুনিয়র।
গত দু’বছরে ইউরোপের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে মিনার্ভা। নরওয়ে কাপ ও ডানা কাপ জয়ের পাশাপাশি চলতি বছর মেডিটেরেনিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কাপে লিভারপুলের অনূর্ধ্ব-১৫ দলকে ৬-০ গোলে হারিয়েও নজর কেড়েছিল তারা। ইউরোপের মাটিতে একের পর এক ট্রফি জিতে মিনার্ভা অ্যাকাডেমিকে ভারতীয় যুব ফুটবলের মুখ বললে অত্যুক্তি হবে না।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 05:27 PM Aug 09, 2026Updated: 10:31 PM Aug 09, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
