বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসবের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে বিদেশ, দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে পর্যটকরা বোলপুর, শান্তিনিকেতনে ভিড় করেন। রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকেও মানুষজন হাজির হন শান্তিনিকেতনে। কিন্তু এবারও হতাশার কথা শোনাল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এবারও বসন্ত উৎসব সেখানে হবে রুদ্ধদ্বার।পর্যটক-স্থানীয়দের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ ক্যাম্পাস চত্বরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্বভারতীতে অনুষ্ঠিত হবে ‘বসন্ত বন্দনা’। সেখানে দূরদূরান্তে পর্যটক-সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবেশ নিষেধ। গতকাল, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠক করে। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষর দাবি, সকলকে নিয়ে বসন্ত উৎসব করা সম্ভব নয়। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি কোনওভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। তাই এবারও ঘরোয়া পরিবেশে ‘বসন্ত বন্দনা’ আয়োজন করা হবে। কেবল বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, অধ্যাপক ও কর্মীরাই অংশ নিতে পারবেন। বাইরের কোনও ব্যক্তির প্রবেশ থাকবে না।
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষর দাবি, সকলকে নিয়ে বসন্ত উৎসব করা সম্ভব নয়। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি কোনওভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। তাই এবারও ঘরোয়া পরিবেশে ‘বসন্ত বন্দনা’ আয়োজন করা হবে।
এই প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এবারও সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান হবে। এমনকী ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসে বসন্ত বন্দনায় আবিরের ব্যবহারও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে এবারও বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠান প্রকাশ্যে হচ্ছে না। এই কথা জানার পরেই স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা এসেছে। শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব না হওয়ায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে হস্তশিল্পী ও হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে শেষবার শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসবে সর্বসাধারণের প্রবেশ ছিল। প্রচুর সংখ্যায় পর্যটক, সাধারণ মানুষের ভিড় হয়েছিল সেখানে। অনুষ্ঠান শেষ করতেও সমস্যা দেখা গিয়েছিল। নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বসন্ত উৎসব নিয়ে আলোচনা করে। ২০২০ সালে করোনা আবহ ছিল। পরপর দু'বার রুদ্ধদ্বারেই ছোট করে ওই অনুষ্ঠান হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই নিয়মই মানা হচ্ছে। এবার শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসে বসন্ত বন্দনায় আবিরের ব্যবহারও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে খবর।
