অভাবের তাড়নায় কোলের কন্যাসন্তানকে বিক্রির অভিযোগ। বারাসতের ২ নম্বর ব্লকের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মা-বাবা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করল শাসন থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম স্বামী রবিন পাসোয়ান ওরফে বুড়ো (২৩), স্ত্রী টোটোন সরকার (২৩) এবং শিশুবিক্রিতে 'সাহায্যকারী' সোনালি সাহা ওরফে জাসমিনা বিবি (৩৩)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দম্পতির বাড়ি বারাসত ২ নম্বর ব্লকের দাদপুর পঞ্চায়েতের বহিরা কালীবাড়ি এলাকায়। বুড়ো পেশায় দিন মজুর। পরিবারে পাঁচ বছরের একটি ছেলেও আছে। অভাবের সংসারে দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে জন্মানোর পরে মাত্র মাস দশেক বয়সে দত্তপুকুর থানার বামনগাছি স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সোনালি ওরফে জাসমিনার সহযোগিতায় ওই দম্পতি শিশুকে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ।
ধৃত রবীন পাসোয়ান ওরফে বুড়ো
নিজেদের সন্তানকে বিক্রির জন্য দম্পতি ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে। যদিও পুলিশের অনুমান টাকার অংক আরও অনেক বেশি। মাস চারেক আগের এই ঘটনা দিনদুয়েক আগে সুত্র মারফত জানতে পারেন বারাসত ২ নম্বর ব্লকের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার রাজ শংকর পান্ডে। এনিয়ে তিনি শাসন থানায় লিখিত অভিযোগে দায়ের করলে তদন্তে নেমে এদিন অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধৃত টোটোন সরকার
এই প্রসঙ্গে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার রাজ শংকর পান্ডে বলেন, "স্থানীয় সূত্রে শিশু বিক্রির বিষয়টি জানতে পারি। এর সঙ্গে একটি চক্র যুক্ত রয়েছে বলেই মনে করছি। পুলিশ ওই চক্রের খোঁজ করছে।"
শিশুবিক্রিতে 'সাহায্যকারী' সোনালি সাহা
এর সঙ্গে আন্তঃরাজ্য শিশু বিক্রির চক্র যুক্ত রয়েছে বলেই অনুমান তদন্তকারীদের। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে বিক্রি হওয়ায় শিশু দক্ষিণ ভারতের কোন রাজ্যে বলেই কিছু তথ্য জানতে পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপারের নির্দেশে শাসন থানার পুলিশের একটি টিম ইতিমধ্যেই সেই রাজ্যে শিশু উদ্ধারের জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিনই ধৃতদের বারাসত জেলা আদালতে পেশ করা হলে ১২দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে শিশু বিক্রির চক্রে যুক্ত বাকিদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
