জাল জাতি শংসাপত্র বানানো শুধু নয়, তার জেরে বউকে পঞ্চায়েত প্রধানও করেছিলেন তৃণমূল নেতা! তিনি নিজে আবার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। রাজ্যে পালাবদলের পরে শেষপর্যন্ত সস্ত্রীক গ্রেপ্তার তৃণমূলের ওই নেতা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। ধৃত ওই দম্পতির নাম প্রসেনজিৎ ঘোষ ও উমা ঘোষ। ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। ২০২২ সালে উমা ঘোষ-সহ পাঁচজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে তপশিলি শংসাপত্র জাল করে ভোটে দাঁড়ানো ও চেয়ারে বসার অভিযোগ উঠেছিল।
মমতা ঠাকুর পরিচালিত মতুয়া মহাসংঘের বনগাঁর সাধারণ সম্পাদক তথা বনগাঁ পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তিনি তৃণমূলের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকে পঞ্চায়েত প্রধান করার জন্য জাতিগত শংসাপত্র জাল করা হয়েছিল। অভিযোগ, গত পঞ্চায়েত ভোটের পর স্ত্রীকে প্রধান করবার জন্য এক মৃত ব্যক্তির পরিচয় জাল করে উমা ঘোষের ওই শংসাপত্র তৈরি করা হয়। ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ছিলেন। এখন তিনি প্রাক্তন।
জাতিগত শংসাপত্র জাল, এই অভিযোগে ২০২২ সালে কোর্টে মামলা দায়ের হয়। এরপর তৎকালীন মহকুমা শাসক বনগাঁ থানার আইসিকে প্রসেনজিৎ ঘোষ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাতকারণে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি! যদিও ২০২৫ সালে উমা ঘোষের তপশিলি শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায়। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অভিযানও শুরু করেছে। গতকাল, শুক্রবার রাতে শিমুলতলায় বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বাড়ি থেকেই স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, শংসাপত্র বের করতে সাহায্য করেছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
