তোলাবাজি, সন্ত্রাস ও বালি পাচার, ভোট পরবর্তী হিংসা। একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার পাণ্ডবেশ্বরের যুব তৃণমূল সভাপতি। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম বৃষ্টি। চোর, চোর স্লোগান তোলে ক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে থানা চত্বর। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূলের যুব নেতা শেখ আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর মদতে অজয় নদ থেকে ট্রাক্টর ও ডাম্পারে করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালি পাচার চলত। পাশাপাশি তোলাবাজি, সন্ত্রাস-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এই আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে তৃণমূল আমলে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর ফের তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শনিবার থানা থেকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার জন্য গাড়িতে তোলার সময় স্থানাীয় বাসিন্দারা ডিম ছোড়েন। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনওমতে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তোলে। কেন গ্রেপ্তার করা হল? এই প্রশ্ন করলে তৃণমূলের যুব নেতা জানান, তিনি কিছু জানেন না। রাজ্যজুড়ে একের পর এক তৃণমূল নেতা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার পাশাপাশি, তোলাবাজি, দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। সেই তালিকায় জুড়ল পাণ্ডবেশ্বরের যুব তৃণমূল নেতা শেখ আলাউদ্দিনের।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের ছোট-বড় নেতা, যে-ই হোক না কেন, দেখা পেলেই চলছে ডিম থেরাপি। কেউ ভয়ে হেলমেট পরে ডিম থেকে বাঁচছেন, কাউকে পুলিশের জালি গাড়িতে উঠে পালাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের উদ্দেশে আইন নিজের হাতে না তুলে নিতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে শুভেন্দু বলেন, “এই সরকারের আমলে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধের অভিযোগ করে পুলিশের উপর আস্থা রাখুন। আজকেও একজন প্রাক্তন বিধায়ক গ্রেপ্তার হয়েছেন। যৌথভাবে জড়ো হয়ে কারও বাড়ি যাওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজনে সিআইডি সাহায্য নেওয়া হবে। এসটিএফের নতুন টিম বানানো হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবেই। কারও বাড়িতে বা কারও কাছে গিয়ে বিচার চাওয়ার দরকার নেই।”
