প্রকৃতি বারবার তাদের বাসস্থানে হানা দিয়েছে। কখনও ফণী, কখনও ডানার মতো ঘূর্ণিঝড়ে ওড়িশা উপকূল জুড়ে থাকা বিরলতম অলিভ রিডলে কচ্ছপরা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আবার স্বস্থানে ফিরেও এসেছে। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে জীবনচক্র তছনছ হয়ে গিয়েছে। তারই প্রমাণ মিলল হাওড়ার নদীতে ভেসে আসা দুটি অলিভ রিডলে কচ্ছপ। পথ ভুলে তারা নাকি চলে এসেছিল আমতায়। পরে তা পরিবেশকর্মীদের নজরে আসতেই তড়িঘড়ি উদ্ধার করে বনদপ্তরের তৎপরতায় সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হল।
পরপর তিনদিনের ব্যবধানে আমতার ভাটোরা ও কাশমলি থেকে দুটি বিশালাকার অলিভ রিডলে সামুদ্রিক কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সৌরভ মণ্ডল তাদের দেখেই বিরলতম প্রজাতির কচ্ছপ বলে চিনতে পারেন। তিনিই কচ্ছপদের মুক্তির রাস্তা খুঁজে দেন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। দুটি কচ্ছপকেই হাওড়ার বন বিভাগ উদ্ধার করে গড়চুমুক প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। যেহেতু এই কচ্ছপগুলি আদতে গভীর সমুদ্র এবং তট লাগোয়া অঞ্চলের বাসিন্দা, তাই হাওড়া বন বিভাগের বিভাগীয় বন আধিকারিক সুজিত কুমার দাস ও রেঞ্জ অফিসার রাজেশ মুখোপাধ্যায় দায়িত্ব নিয়ে তাদের সমুদ্রে নিয়ে গিয়ে মুক্ত করেন।
অলিভ রিডলে কচ্ছপকে মুক্ত করা হল সমুদ্রে। নিজস্ব ছবি
জানা গিয়েছে, দিন দুই আগে একটি অলিভ রিডলে কচ্ছপকে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি রেঞ্জের অন্তর্গত নির্জন সমুদ্রতটে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার অপর কচ্ছপটিকে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি রেঞ্জে বঙ্গোপসাগরে মুক্ত করা হয়। হাওড়া বন বিভাগের টিমের সঙ্গে ছিলেন বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারী চিত্রক প্রামাণিক। তাঁর কথায়, ''অলিভ রিডলে সামুদ্রিক কচ্ছপ। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস এদের ডিম পাড়ার সময়। যেহেতু এরা নোনা জলের প্রাণী, মিষ্টি জলে এদের কিছুটা সমস্যা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা যেভাবে তাদের উদ্ধার করেছে এবং হাওড়া বন বিভাগের ডিএফও ও রেঞ্জ অফিসার যেভাবে গুরুত্ব সহকারে দুই বিরল কচ্ছপকে সমুদ্রে ফিরিয়ে দিলেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নইলে এরা উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে হয়ত বাঁচতে পারত না।''
কচ্ছপকে মুক্ত করে দেওয়ার আগে বন বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা। নিজস্ব ছবি
