shono
Advertisement

Breaking News

Gour Banga University

একনায়কতন্ত্র চালানোর অভিযোগ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ঘিরে বিক্ষোভ

গত বছরের ১৮ নভেম্বর স্থায়ী উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক আশিস ভট্টাচার্য।
Published By: Sayani SenPosted: 06:16 PM Feb 13, 2026Updated: 06:21 PM Feb 13, 2026

একের পর এক উপাচার্য বদল। তারপরেও পরিস্থিতি সেই তিমিরেই। কোনও মতেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। এবার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিনমাসের মধ্যেই কর্মী, আধিকারিক ও অধ্যাপকদের একাংশের কোপে পড়লেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য। তাঁর বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছেন অধ্যাপকদের একাংশ। শুধু তা-ই নয়, ওই অধ্যাপকরা শুক্রবার দুপুরে উপাচার্যকে তাঁর দপ্তরে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখেন। উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগ, এক্সজিকিউটিভ কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়াই বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাসকে সুকৌশলে বদলি করে দেন উপাচার্য। যা একেবারেই নিয়মবহির্ভূত বলেও অধ্যাপকদের একাংশের অভিযোগ। এরপরেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে খেয়ালখুশি মতো কাজ করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অধ্যাপকরা। এদিন তাঁরা উপাচার্যকে ঘেরাও করে রাখেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে।

Advertisement

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্য়ালয়ের উপাচার্যকে ঘিরে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র

অভিযোগ, এক্সজিকিউটিভ কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়াই বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাসকে সুকৌশলে বদলি করে দেন উপাচার্য। যা একেবারেই নিয়মবহির্ভূত বলেও অধ্যাপকদের একাংশের অভিযোগ। এরপরেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে খেয়ালখুশি মতো কাজ করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অধ্যাপকরা।

উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্যের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপকরা। উপাচার্যের অভিযোগ, তাঁর দিকে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলা হয়েছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একেবারেই কাম্য নয়। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ আগস্ট গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে অধ্যাপক পবিত্র চট্টোপাধ্যায়কে আচমকা সরিয়ে দেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তারপর থেকে প্রায় তিন মাস উপাচার্যহীন অবস্থায় চলছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্থায়ী উপাচার্য পেয়েছে গৌড়বঙ্গ। গত বছরের ১৮ নভেম্বর স্থায়ী উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক আশিস ভট্টাচার্য। তার আগে তিনি বিশ্বভারতীর পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এরপর মাত্র তিন মাসও পেরোয়নি। অধ্যাপকদের একটি গোষ্ঠীর বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন তিনি। অভিযোগ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরই অধ্যাপক, প্রশাসনিক আধিকারিক ও কর্মীদের মধ্যে দু'টি গোষ্ঠী সক্রিয় থাকে। ছাত্র আন্দোলন-সহ নানাভাবে অচলাবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে সেই দুই গোষ্ঠীর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধের প্রভাবও অন্যতম ভূমিকা পালন করে বলে অভিযোগ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মহলের। সেই ট্র্যাডিশন যে অব্যাহত, তা নতুন উপাচার্যকে ঘেরাও আন্দোলনের এই ঘটনায় ফের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাশকে সরিয়ে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয় দর্শন বিভাগের অধ্যাপিকা জ্যোৎস্না সাহাকে। আন্দোলনকারী অধ্যাপক সাধনকুমার সাহার অভিযোগ, এক্সজিকিউটিভ কাউন্সিলরের (ইসি) বৈঠক ছাড়াই উপাচার্য রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে দিয়েছেন। যেটা উপাচার্য করতে পারেন না। বিশ্বজিৎ দাশ ছুটি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সেই সুযোগ নিয়েছেন উপাচার্য। তিনি ইসি'র বৈঠক ডেকে অনুমোদন করেননি কেন? প্রশ্ন ওই অধ্যাপকের। যদিও গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্যের দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই সবকিছু করেছেন। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশেই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে পদ থেকে সরানো হয়েছে। উপাচার্যের আক্ষেপ, "এদিন অধ্যাপকরা চেম্বারে ঢুকে আমার সঙ্গে আঙ্গুল উঁচিয়ে কথা বলেছেন। যা শিক্ষাঙ্গনে কাম্য নয়।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement