কচিকাঁচাদের পুষ্টির কথা ভেবে আগেই মিড-ডে মিলে ভাতের সঙ্গে মরশুমি নানা রকমের সবজি দিতে উদ্যোগ নিয়েছিল রায়দিঘির এক প্রাথমিক স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাজারে যে আকাশছোঁয়া দাম সবজির! অগত্যা, স্কুলেই শুরু হয়েছে সবজি চাষ। প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে খুদে পড়ুয়ারাও হাত লাগিয়েছে সবজি চাষে। মিড-ডে মিলে শিশুরা ভাতের পাতে মহানন্দে খাচ্ছে তাদের হাতে তৈরি চাষের সেই সবজিই।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির (Raidighi) গিরিবালা আদর্শ অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে স্কুলপ্রাঙ্গণেই মরশুমি সবজি চাষে হাত লাগিয়েছেন। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে খুদে পড়ুয়াদের হাতের ছোঁয়ায় স্কুলপ্রাঙ্গণেই উৎপন্ন হচ্ছে বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি থেকে টমেটো, শিম, লাউশাক, ধনেপাতা সবকিছু। পড়ুয়াদের সহযোগিতা করছেন প্রধান শিক্ষক-সহ সহশিক্ষকরা প্রত্যেকেই। নিজেদের হাতে তৈরি সেই ফসলই প্রতিদিন রান্না হচ্ছে স্কুলের মিড-ডে মিলে।
সবজির বাগানে স্কুলের পড়ুয়ারা। নিজস্ব চিত্র
প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ প্রামাণিক জানান, স্কুলের মাঠেই ফলানো পুষ্টিকর সবজিই পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের পাতে পড়ছে নিয়মিতই। এতে একদিকে যেমন বহু প্রান্তিক পরিবার থেকে আসা কচিকাঁচাদের শারীরিক পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হচ্ছে তেমনই কমানো গিয়েছে মিড-ডে মিলের খরচও। তা ছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের কৃষিকাজ ও উৎপন্ন ফসলের উপর সম্যক ধারণাও গড়ে উঠছে বলে জানান তিনি। নিজেদের হাতে তৈরি সবজি মিড-ডে মিলের পাতে পেয়ে বেশ খুশি ছাত্রছাত্রীরাও।
শুধু সবজি বাগানই নয়, নজর কাড়বে স্কুল প্রাঙ্গণের রকমারি ফুলের বাগানও। স্কুল শুরুর আগে ও ছুটির পর সেই সবজি ও ফুলের বাগান নিজেদের হাতেই নিয়মিত পরিচর্যা করে কচিকাঁচারা। সৃষ্টির আনন্দে খুশির জোয়ার খুদে পড়ুয়াদের চোখে মুখে যে আনন্দ ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন শিক্ষক-অভিভাবক সকলেই।
