রাজা দাস, বালুরঘাট: পঞ্চায়েত নির্বাচনে নজিরবিহীন হিংসা দেখল বাংলা। ‘দানা’ ও ‘ছাতু’র দাপটে নিরাপত্তাহীন খোদ নিরাপত্তারক্ষীরাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হলেন এক পুলিশকর্মী। এমনই পরিস্থিতিতে এক ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল বালুরঘাটে। গণতন্ত্রের রক্ষায় একাই দুষ্কৃতীদের সঙ্গে লড়াই করলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক। খালি হাতে দুষ্কৃতীদের পিটিয়ে ভোটগণনায় ছাপ্পা রুখে দিলেন তিনি।
[‘ফ্লোর টেস্ট’-এর আগে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা কংগ্রেসের, কর্ণাটকে প্রোটেম স্পিকার বোপ্পাইয়াই]
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বালুরঘাট কলেজে ভোটগণনা শুরু হয় দেরিতে। গ্রাম পঞ্চায়েতের আসন গণনা হতেই সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। মোটের উপর সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতির গণনা শুরু হতেই কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে বহিরাগতরা। ভোটকর্মীদের হাত থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয় তারা। হামলার ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করতে গেলে এক ভোটকর্মীকে মারধর করে দুষ্কৃতীরা। ওই ভোটকর্মীর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত মোহান্ত। তাঁর উপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। তবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে রুখে দাঁড়ান তিনি। এমনকী এক দুষ্কৃতীকে প্রায় বগলদাবা করে বুথের বাইরে নিয়ে আসেন। তারপর ঘটনাস্থলে মজুত পুলিশকর্মীদের হাতে ওই দুষ্কৃতীকে তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা শাসক। পুলিশ বাহিনী চলে আসায় বুথ ছেড়ে পালায় অন্যান্য হামলাকারীরাও।
হামলার পর নিরাপত্তার দাবিতে গণনা বন্ধ করে দেন ভোটকর্মীরা। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কেউ ভোটগণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন না। এর পরেই আসরে নামেন অতিরিক্ত জেলাশাসক, এসডিও এবং অন্যান্যরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গণনা কেন্দ্রে ছুটে আসেন জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী। গভীর রাতে গণনা শুরু হলেও সকাল হতেই ভোটকর্মীরা যে যার মতো বেরিয়ে যান। তবে জেলা প্রশাসনিক ভবনে কর্মরত বেশ কিছু কর্মীকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে গণনার কাজে নামানো হয়। শুক্রবার সারাদিন ধরে চলে বাকি থাকা বালুরঘাট জেলা পরিষদের তিনটি আসনের ব্যালট পেপার গণনা। তবে অতিরিক্ত জেলাশাসক সুব্রত মোহান্ত যেভাবে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন তা নজিরবিহীন।
[নির্দিষ্ট সময়ের তিনদিন আগেই রাজ্যে ঢুকছে বর্ষা! কী বলছে মৌসম ভবন?]
The post ভোটগণনা কেন্দ্রে হামলা, একাই লড়াই করে ছাপ্পা রুখলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক appeared first on Sangbad Pratidin.
