SIR শুনানিতে ডাক এসেছিল স্ত্রীর। দেশছাড়া ভয় জাঁকিয়ে বসেছিল স্বামীর মনে। যার পরিণতি হল মর্মান্তিক। বাড়ির অদূরে বাগান থেকে উদ্ধার হল প্রৌঢ়ের গলায় ফাঁস দেওয়া দেহ। প্রাথমিকভাবে অনুমান, আতঙ্কেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম চান্দু সরকার। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের পরিরাজপুর পঞ্চায়েতের মুরালিপুকুরের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন চান্দুর স্ত্রী। সেই থেকেই প্রবল আতঙ্কে ভুগছিলেন চান্দু। বৃহস্পতিবার সকালে বধূর হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। এদিন সকালে শুনানিতে যাওয়ার জন্য তৈরি হন তিনি। তারপর দেখেন স্বামী আশপাশে নেই। খোঁজাখুজির পর বাড়ির অদূরে বাগানের গাছে দেখেন স্বামীর ঝুলন্ত দেহ। খবর জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে দেহ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। স্থানীয়দের বিক্ষোভে বন্ধ হয়ে যায় ইটাহার হাইস্কুলের শুনানি। ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। মৃতদেহ নিয়ে ইটাহার চৌরাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। বিশাল পুলিশবাহিনীর দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আয়ত্তে আসে পরিস্থিতি। মৃতের বাবা মোবারক হোসেন বলেন, "বউমা জিন্নাতুন বিবির শুনানির জন্য আজ যাওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে চান্দুকে বাড়িতে না দেখতে পেয়ে খোঁজ করে। তখনই বাগানে চান্দুর দেহ দেখতে পাই। ও ভয় পাচ্ছিল, কিন্তু এমনটা হবে ভাবতে পারিনি।"
