কোনও ধরনের আতঙ্কে পরিবেশ থাকবে না। প্রত্যেকেই নিজের ভোট দিতে পারবেন। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুরে পৌঁছান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেখানে গিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোটে হবে বলে বার্তা তাঁর। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তাঁর কথায়, ''যেসব নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই করা হয়েছে।''
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। আদর্শ আচরণবিধি চলছে রাজ্যে। জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতেও শুরু করেছেন। এর মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবর সামনে আসছে। সম্প্রতি মালদহের কালিয়াচকে এসআইআর সংক্রান্ত কাজে গিয়ে দীর্ঘ কয়েকঘণ্টা আটক হয়ে থাকতে হয়েছে বিচারকদের। যা নিয়ে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। প্রশ্ন উঠছে, আদৌও শাস্তিপূর্ণ ভোট হবে তো? আর এই প্রেক্ষাপটে ঘরে বসে নয়, একেবারে সরজমিনে ময়দানে নেমে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরে পৌঁছেই জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এডিজি পশ্চিমাঞ্চল বিশাল গর্গ, ডিআইজি মেদিনীপুর রেঞ্জ অরিজিৎ সিনহা, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা-সহ জেলার সমস্ত মহকুমা শাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, সিআই, ওসি, আইসি এবং আরও, এআরওরা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে জেলার সামগ্রিক নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোট গ্রহণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় জেলার ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষকদের নিয়েও আলাদা বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
বৈঠক শেষে মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, জেলায় প্রায় ৪০ লক্ষেরও বেশি ভোটার রয়েছে এবং প্রত্যেক ভোটার যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “কোনও ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ থাকবে না, প্রত্যেকেই নিজের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারবেন।” ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, প্রায় ৬০ লক্ষ বিচারাধীন আবেদনগুলির মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৫ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে। যেসব নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং সেই প্রক্রিয়া দু-এক দিনের মধ্যেই শুরু হবে।
মনোজ কুমার আগরওয়ালের কথায়, প্রায় ৬০ লক্ষ বিচারাধীন আবেদনগুলির মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৫ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে। যেসব নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই করা হয়েছে।
এছাড়াও, গত নির্বাচনগুলিতে যেসব এলাকায় অশান্তি বা সমস্যা তৈরি হয়েছিল, সেগুলি নিয়েও পুলিশের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে চিহ্নিত স্পর্শকাতর এলাকাগুলি পরিদর্শন করা হবে এবং সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হবে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মনোজ আগরওয়াল আরও জানান, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ২৫টি থানা রয়েছে। রবিবার সকালে জেলাশাসকের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসে এই থানাগুলির অন্তর্গত স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে পরিদর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় যাতে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, তার জন্য প্রশাসন সর্বস্তরে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে এই বৈঠক থেকে।
