প্রচারে বেরিয়ে ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থীর 'দাদাগিরি'! এক মাংস বিক্রেতার দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই বিক্রেতাকে বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা, জেহাদি বলেও তিনি আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ডোমজুড়ের জগদীশপুর এলাকায়। ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। আর তা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। ঘটনায় সরব হয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের বক্তব্য, চিকেন প্যাটিসের পর এবার মুরগির মাংসের দোকানই তুলে দিচ্ছে বিজেপি। এই বিজেপি যদি সরকারে আসে পশ্চিমবাংলার মানুষকে আর মাছ-মাংস খেতে দেবে না। এঁদের যেন মানুষ ক্ষমা না করেন এমনই দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জগদীশপুরের এক মুরগির মাংস ব্যবসায়ী গত বছর দেড়েক ধরে এলাকার বাজারের কাছে রাস্তার ধারে ব্রয়লার মুরগির মাংস বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এতদিন তাঁর ব্যবসা নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি! বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আচমকা ডোমজুড় কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা বিজেপির ঝান্ডা হাতে কয়েকজন কর্মী-সহ দলবল নিয়ে ওই মুরগি ব্যবসায়ীর দিকে তেড়ে যান বলে অভিযোগ। নানাভাবে তাঁকে হেনস্থা শুরু করেন বলেও দাবি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা মুরগি ব্যবসায়ীকে এসে বলছেন, ‘‘তুমি কোন সাহসে এখানে দোকান খুলে ব্যবসা করছো? তুমি জিহাদী, বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা হয়ে কোন সাহসে রাস্তায় মুরগীর মাংসের দোকান খুলে ব্যবসা করছ?’’ এই বলে ওই মাংস ব্যবসায়ীর দোকান উঠিয়ে নিয়ে রাস্তার উল্টোদিকে সরিয়ে দেন। ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, গোবিন্দ হাজরা মুরগি ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়ে বলছেন, ‘‘এখানে ব্যবসা করা যাবে না তুমি রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী। তোমাকে চলে যেতে হবে।’’ বাধ্য হয়ে মুরগি ব্যবসায়ী তাঁর দোকান সরিয়ে নেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, গোবিন্দর সঙ্গীরাই ব্যবসায়ীর মুরগির খাঁচা, মাংস বিক্রির টেবিল, বাঁশের খুঁটি এসব তুলে সরিয়ে দিচ্ছে। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে দেখেনি 'সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল'।
জগদীশপুরের এক মুরগির মাংস ব্যবসায়ী গত বছর দেড়েক ধরে এলাকার বাজারের কাছে রাস্তার ধারে ব্রয়লার মুরগির মাংস বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এতদিন তাঁর ব্যবসা নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি! বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আচমকা ডোমজুড় কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা বিজেপির ঝান্ডা হাতে কয়েকজন কর্মী-সহ দলবল নিয়ে ওই মুরগি ব্যবসায়ীর দিকে তেড়ে যান বলে অভিযোগ।
এদিকে ওই ঘটনার পর ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাঁর আসল বাড়ি বীরভূমের লাভপুরের গ্রামে। সেখানে গ্রামের বাড়িতে তাঁর নিজের ও পরিবারের সকলের ভোটার লিস্টে নাম আছে। এসআইআরেও তাঁর ও পরিবারের সকলের নাম আছে বলে জানা গিয়েছে। এরপরেও কেন ওই ব্যবসায়ীকে হেনস্তা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে! এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। ডোমজুড়ের তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতি এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘বিজেপির যেটা ধর্ম বিজেপি প্রার্থী সেটাই করছেন। সংখ্যালঘু মুসলিম ভাইদের বাংলাদেশী, জেহাদি, রোহিঙ্গা বলে তাড়িয়ে দেওয়াই তো বিজেপির কাজ। এবার এর বিচার ভোটের ময়দানে মানুষ করবে। এর থেকে বেশী কিছু বলার নেই।’’ এই প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা বলেন, ‘‘ইচ্ছা করে আমার বাড়ির দরজা আটকে তৃণমূল ওই মাংস বিক্রেতাকে বসিয়ে দিয়েছে। যাতে আমি বাড়িতে ঢুকতে না পারি। এরা আসলে বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা, জেহাদি। ইচ্ছে করে তৃণমূল এদের রাজ্যে ঢোকাচ্ছে। আমি যদি কিছু ভুল বলে থাকি তাহলে প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। না হলে এদের ঢোকানোর জন্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।’’
