ভারত: ২৭১/৫ (ঈশান ১০৩, সূর্যকুমার ৬৩, লকি ফার্গুসন ৪১/২)
নিউজিল্যান্ড: ২২৫/১০ (ফিন অ্যালেন ৮০, অর্শদীপ ৫১/৫, অক্ষর ৩৩/৩)
ভারত ৪৬ রানে জয়ী।
সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয়ী ভারত।
শিয়রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। দেশের মাটিতে ফের বিশ্বজয়ী হওয়ার অপেক্ষায় দেশবাসী। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল তার প্রস্তুতি পর্ব। তিরুঅনন্তপুরমে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের ২৭১ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামল ২২৫ রানে। ব্যবধান যতটা বেশি মনে হচ্ছে, ম্যাচ চলাকালীন দুশ্চিন্তাও ততটাই বেশি ছিল। দ্রুতগতিতে ভারতের রান তাড়া করছিলেন ফিন অ্যালেনরা। পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ভারত জিতল ৪৬ রানে, সিরিজ জিতল ৪-১ ব্যবধানে। তবে চিন্তা রইল বোলিং বিভ্রাট নিয়ে।
ব্যাটিং নিয়ে সমস্যা নেই। ঠিক সময়ে ফর্মে ফিরেছেন সূর্যকুমার যাদব। বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ঝড় তুলছেন ঈশান কিষানও। কিন্তু বোলিং? নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে জশপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্স কিন্তু কোচ গৌতম গম্ভীরের কপালে ভাঁজ ফেলতে বাধ্য। গতবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে বোলিং প্রতিটা ম্যাচের রং বদলে দিয়েছিল, সেটাই যেন এবার সবচেয়ে চিন্তার নাম হতে চলেছে।
ভারতের জন্য সাদামাটা বোলিং ছাড়া চিন্তার নাম সঞ্জু স্যামসনের ফর্ম। ঘরের মাঠে তাঁর কাছে কামব্যাকের সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি আউট হলেন ৬ রানে। অভিষেক শর্মা ১৬ বলে ৩০ রানে ভারতকে ভালো জায়গায় দাঁড় করিয়ে আউট হন। তবে ঈশানের কাছে সব ফিকে। ঈশ সোধির এক ওভারে তুললেন ২৯ রান। সূর্যকুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে যেভাবে রান তুলছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল ৩০০ রান সময়ের অপেক্ষা। ভারত অধিনায়ক ৬৩ রানে আউট হওয়ার পর শুরু হয় হার্দিকের দাপট। শেষের দিকে ১৭ বলে ৪২ রানের হার্দিকোচিত ইনিংস খেলে যান পাণ্ডিয়া। তবে যাবতীয় আলোচনা ঈশানকে নিয়েই। দীর্ঘ দু’বছর জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। এদিন যে ইনিংসটা খেললেন, তাতে লণ্ডভণ্ড কিউয়িদের বোলিং। একই সঙ্গে ভয় ধরাবে বিশ্বকাপের যে কোনও দলকে। ৪৩ বলে ১০৩ রান করে ফিরলেন। ৬টি চারের পাশাপাশি ছিল ১০টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ২৫০-র কাছাকাছি। এরপর আর বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে তাঁর থাকা নেই সংশয়ের জায়গা নেই।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ৪২ বলে সেঞ্চুরি ঈশান কিষানের। ছবি: সোশাল মিডিয়া
শুধু ব্যাটিং নয়, বিশ্বকাপে সম্ভবত কিপিংও করতে হবে ঈশানকে। এদিনের ম্যাচে উইকেটের পিছনে দস্তানা হাতে তিনিই দায়িত্ব সামলালেন। তাহলে কি সঞ্জু প্রথম একাদশের বাইরেই? তিলক বর্মা ঢুকলে ঈশান চলে আসবেন ওপেনিংয়ে। শুধু এটুকুই বদলের সম্ভাবনা। যদিও বোলিংয়ে অনেক কিছুই শোধরাতে হবে। সিরিজ আগেই জিতে গিয়েছিল ভারত। পরীক্ষানিরীক্ষার সুযোগ নিয়ে এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করেন সূর্যকুমাররা। তিরুঅনন্তপুরমের পিচ পাটা। বল সহজে ব্যাটে আসছে, স্ট্রোক খেলাও সহজ। পরে বল করায় শিশিরের সমস্যাতেও ভুগতে হয় ভারতের বোলিংকে। তা বলে ২৭২ রান তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড যেভাবে সমানে-সমানে টক্কর দিল, তা যথেষ্ট আশঙ্কার। এই ম্যাচ জিতে গেলে টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে তা সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নজির গড়ত। সেটার সম্ভাবনা কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণে ছিল।
শুধু ব্যাটিং নয়, বিশ্বকাপে সম্ভবত কিপিংও করতে হবে ঈশানকে। এদিনের ম্যাচে উইকেটের পিছনে দস্তানা হাতে তিনিই দায়িত্ব সামলালেন। তাহলে কি সঞ্জু প্রথম একাদশের বাইরেই? তিলক বর্মা ঢুকলে ঈশান চলে আসবেন ওপেনিংয়ে। শুধু এটুকুই বদলের সম্ভাবনা।
শুরুতে টিম সেইফার্টকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অর্শদীপ। কিন্তু ফিন অ্যালেন অসাধ্যসাধন করতে উঠেপড়ে লাগলেন। ভারতের কোনও বোলারকেই রেয়াত করেননি তিনি। ৩৮ বলে ৮০ রান করে যান। মারেন ৮টি চার ও ৬টি ছয়। তাঁকে আউট করেন অক্ষর প্যাটেল। তারপরও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রেখেছিলেন রাচীন রবীন্দ্ররা। ড্রিংকস ব্রেকে দেখা যায় গম্ভীর কথা বলছেন সূর্যকুমারের সঙ্গে। তারপরই রাচীন, গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল স্যান্টনারের উইকেটে স্বস্তি ফেরে টিম ইন্ডিয়ার ডাগআউটে। এরপর ১২ বলে ২৬ করে কিছুটা সমস্যায় ফেলেছিলেন ড্যারিল মিচেল। কিন্তু তাঁকেও বোল্ড করেন অর্শদীপ। বাইরের বল উইকেটে টেনে আজব ভঙ্গিতে আউট হন মিচেল। তারপর আর ভুগতে হয়নি। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে ভারতের জয় নিশ্চিত করে দেন বরুণরা। শেষ দুই ওভারে বল করেন অভিষেক শর্মা ও রিঙ্কু সিং। অর্শদীপ ৫১ রান দিয়ে ৫ উইকেট তোলেন। কিন্তু সঙ্গে রানের পাহাড় না থাকলে কী হবে? বিশ্বকাপের আগে সেই প্রশ্ন রয়েই গেল।
