ফের ধর্মীয় অশান্তিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অনুষ্ঠানে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান ঘিরেই যত অশান্তি। অভিযোগ, ওই স্লোগান দেওয়া যাবে না বলে দাবি করে অনুষ্ঠানে ঢুকে এক মহারাজকে মারধর করা হয়। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। অনুষ্ঠানের আয়োজকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে হামলাকারী একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভগবানপুর থানার পুলিশ। তবে এখনও পলাতক ২। নির্বাচনের আগে 'জয় শ্রীরাম' ইস্যু ঘিরে বিজেপি-তৃণমূল চাপানউতোর শুরু হয়েছে যথারীতি।
শনিবার ভগবানপুর ১ ব্লকের গুড়গ্রামে শতবর্ষ উপলক্ষে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন আর্য সমাজের সূর্যানন্দ মহারাজ। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, মহারাজের বক্তৃতা চলাকালীন আচমকা কয়েকজন যুবক হামলা চালায়। 'জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে বাধা দেওয়া হয় এবং মহারাজকে প্রাণে মারার চেষ্টাও হয়। আয়োজক সংস্থার দাবি, জগন্নাথ মাইতি, প্রদ্যুৎ মাইতি ও মাধব মাইতি নামে তিন ব্যক্তি হামলা চালিয়েছে। যদিও অভিযোগ পাওয়ার পরেই অভিযুক্ত জগন্নাথ মাইতিকে গ্রেপ্তার করেছে ভগবানপুর থানার পুলিশ। ধৃতকে রবিবার কাঁথি মহকুমা আদালতে হাজির করলে বিচারক ৩দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, মহারাজের বক্তৃতা চলাকালীন আচমকা কয়েকজন যুবক হামলা চালায়। 'জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে বাধা দেওয়া হয় এবং মহারাজকে প্রাণে মারার চেষ্টাও হয়। আয়োজক সংস্থার দাবি, জগন্নাথ মাইতি, প্রদ্যুৎ মাইতি ও মাধব মাইতি নামে তিন ব্যক্তি হামলা চালিয়েছে। যদিও অভিযোগ পাওয়ার পরেই অভিযুক্ত জগন্নাথ মাইতিকে গ্রেপ্তার করেছে ভগবানপুর থানার পুলিশ।
ঘটনা নিয়ে বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা বলেন, “হিন্দু সম্মেলনে ঢুকে সন্ন্যাসীর উপরে পরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। মহারাজের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। 'জয় শ্রীরাম' বলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা পুলিশের কাছে নাম ধরে ধরে অভিযোগ জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মেদিনীপুর অচল করে দেওয়া হবে। ওঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। তাঁর প্রবল শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারছেন না।''
এই অনুষ্ঠান ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত। নিজস্ব ছবি
অভিযোগ পাওয়ামাত্র তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। এনিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে বলেন, ''বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মঞ্চে হামলার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত জগন্নাথ মাইতিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।” ভগবানপুর ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রবীনচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ''এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কোনওভাবেই জড়িত নয়। ভোটের আগে ময়দান গরম করতে পরিকল্পিতভাবে উসকানির ছক কষছে বিজেপি।''
